info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

তিন দিনের নীরবতার পর যশোরের বেনাপোল বন্দরে আবার চাকার শব্দ

তিন দিনের নীরবতার পর যশোরের বেনাপোল বন্দরে আবার চাকার শব্দ
Save to Wishlist
তিন দিনের নীরবতার পর যশোরের বেনাপোল বন্দরে আবার চাকার শব্দ

শাহারুল ইসলাম ফারদিন,যশোর প্রতিনিধি:
টানা তিন দিন যেন থমথমে ছিল বেনাপোল স্থলবন্দর। বিশাল ইয়ার্ডে সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে, কাগজপত্রের ফাইল বন্ধ ড্রয়ারে, কাস্টমস শেডে কমে গিয়েছিল কর্মচাঞ্চল্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দরটি এক ধরনের অচেনা নীরবতায় ঢেকে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা বাজতেই সেই চেনা দৃশ্য ফিরতে শুরু করে। গেট খুলতেই একে একে ঢুকতে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক। কাগজপত্র হাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মীরা। ইয়ার্ডে শোনা যায় ইঞ্জিনের গর্জন, হুইসেলের শব্দ, আর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে স্বস্তির নিশ্বাস।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলছিলেন, নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিন বন্দর কার্যত বন্ধ ছিল। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে একধরনের চাপ তৈরি হয়। আজ (শনিবার) সকাল থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সাধারণত ভারত থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাক পণ্য আসে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২শ ট্রাক পণ্য ভারতে যায়।

সকালের প্রথম ঘণ্টাতেই চাকা ঘুরতে শুরু করে দুই প্রান্তে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ভারত থেকে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৫টি ট্রাক ভারতে রপ্তানি হয়েছে। নির্বাচন ও ছুটির কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন আবার নিয়মিতভাবে চালু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বন্দরের ভেতরে দেখা যায়, কেউ পণ্যের চালান মিলিয়ে দেখছেন, কেউ গুদামে জায়গা ঠিক করছেন। তিন দিনের জমে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করতে ব্যস্ত সবাই। ট্রাকচালকদের মুখেও স্বস্তি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা আবার পথে।

স্থানীয় ব্যবসায়িকরা বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই ট্রাকের চাপ স্বাভাবিক হবে। বেনাপোল বন্দরের এই পুনরুজ্জীবন শুধু একটি স্থাপনার সচল হওয়া নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই দেশের বাণিজ্য, হাজারো শ্রমিকের জীবিকা এবং সীমান্তঘেঁষা জনপদের দৈনন্দিন অর্থনীতি।

তিন দিনের নীরবতা পেরিয়ে তাই শনিবার সকালটি ছিল যেন ফিরে আসার সকাল চাকার শব্দে, কাগজের সইয়ে, আর ব্যস্ততার পুরোনো ছন্দে।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!