মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার, বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কমিটিতে এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত না করাকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫ থেকে ১৬ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একাধিক পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া, সদরদীসহ চার থেকে পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে শনিবার রাতে মহেশ্বরদী এলাকায় অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত না করা এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরই জেরে রোববার সকালে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্বরত সাংবাদিক এবং বহু গ্রামবাসী আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিকবার টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে প্রথমদিকে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুপুরের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকবিরোধী কমিটিতে এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত না করাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কেউ আটক নাই।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।