info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

যশোরের সীমান্ত এলাকায় নির্বাচন, সেনা অনুপস্থিতিতে মূল ভরসা বিজিবি

যশোরের সীমান্ত এলাকায় নির্বাচন, সেনা অনুপস্থিতিতে মূল ভরসা বিজিবি
যশোরের সীমান্ত এলাকায় নির্বাচন, সেনা অনুপস্থিতিতে মূল ভরসা বিজিবি

শাহারুল ইসলাম ফারদিনঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে আস্থার প্রশ্নটি এখনো জোরালোভাবে রয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর সরাসরি মোতায়েন না থাকায় সীমান্ত অঞ্চলের নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব পড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের ওপর। প্রশাসনের দাবি, প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই। তবে ভোটার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, এই ব্যবস্থা কতটা যথেষ্ট।


জেলা প্রশাসন ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। চলছে নিয়মিত টহল ও তল্লাশি।


যশোর ৪৯ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তিনটি জেলার ১৬টি উপজেলা ও ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ১১টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী হওয়ায় যশোরের এই এলাকাগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।


তবে প্রশাসন ও বিজিবির এই প্রস্তুতির পরও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পুরোপুরি আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বিজিবির উপস্থিতি পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।
শার্শা উপজেলার শাখারীপোতা গ্রামের ভোটার রহিমা বেগম বলেন, ভোট দিতে গিয়ে যেন ভয় কাজ না করে, সেই নিশ্চয়তা চাই। এজন্য বিজিবির পাশাপাশি র‌্যাব বা অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি দরকার।


স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা মানুষের মনে এখনো আতঙ্ক তৈরি করে। তাদের দাবি, শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের আগের দিনগুলোতেও কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান টহল নিশ্চিত করতে হবে।


রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, বিশেষ বাহিনীর ওপর আস্থা থাকলেও শার্শা উপজেলার মতো সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী সরাসরি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে না পারায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিজিবিকেই এককভাবে প্রধান দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।


এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ ছিদ্দিকী বলেন, যশোর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইনগত জটিলতার কারণে এখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন নেই। ফলে বিজিবিকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আমাদের ব্যাটালিয়নের আওতায় তিনটি জেলার ১৬টি উপজেলায় ১১টি সংসদীয় আসনে ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।


তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), কুইক রেসপন্স ফোর্স ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা অবৈধ কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, চেকপোস্ট ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।