info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

গ্লোবাল ফেইথ ফোরাম ও USCIRF -এ বাংলাদেশের সহাবস্থানের মডেল উপস্থাপন ঢাবি উপাচার্যের

গ্লোবাল ফেইথ ফোরাম ও USCIRF -এ বাংলাদেশের সহাবস্থানের মডেল উপস্থাপন ঢাবি উপাচার্যের
গ্লোবাল ফেইথ ফোরাম ও   USCIRF -এ বাংলাদেশের সহাবস্থানের মডেল উপস্থাপন ঢাবি উপাচার্যের

ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত দুইটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং নৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন ( (USCIRF)-এর কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ার ভিকি হার্টজলার  (Vicky Hartzler)-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। একই সফরে তিনি গ্লোবাল ফেইথ ফোরামে বিশেষ বক্তা হিসেবে ভাষণ প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

USCIRF -এর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠকটি সমন্বয় করে মাল্টি-ফেইথ নেবারস নেটওয়ার্ক  (MFNN)

অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দৃঢ় হলেও সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনাই রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৭৪টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টির সরাসরি ধর্মীয় উপাদান ছিল; বাকি ঘটনাগুলোর পেছনে ভূমি-বিরোধ, স্থানীয় দ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী কর্মকাণ্ড ভূমিকা রেখেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং আন্তঃধর্মীয় ঐক্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পূজা উদযাপন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ঈদ অনুষ্ঠান, বড়দিনের বৃহৎ আয়োজনসহ বছরব্যাপী আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত টার্গেটিংয়ের প্রমাণ নেই। নির্বাচন সংবেদনশীল সময় হলেও সরকার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাকিস্তানের সুযোগ নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তবে নির্বাচন-পরবর্তী বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সম্ভাবনা কম বলে মত দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি সাম্প্রদায়িক ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য কেন্দ্রীয় একাডেমিক মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং মারাকেশ ঘোষণার নীতিমালা একাডেমিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সুপারিশ করেন।

গ্লোবাল ফেইথ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এই ফোরাম মেধা, গবেষণা এবং আশা-ভিত্তিক বৈশ্বিক সংলাপের একটি অনন্য উদাহরণ। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলে ইসলাম সুফি ঐতিহ্যের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিস্তার লাভ করে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্ররোচনা কাজ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-আন্দোলন-প্রতিটি জাতীয় পরিবর্তনের কেন্দ্রে ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়।