ঢাবি প্রতিনিধি:
আকিজ-মনোয়ারা
ট্রাস্টের অর্থায়নে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) মেধাবী
ও অসচ্ছল ১৫০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে এক বছরের
জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ ২২ জানুয়ারি ২০২৬,
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন
মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে তিন মাসের
এককালীন বৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ
আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকিজ-মনোয়ারা ট্রাস্টের
ট্রাস্টি মনোয়ারা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী
শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েম।
প্রধান অতিথির
বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি
সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মধ্য দিয়েই এর ভিত্তি
শক্তিশালী হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সন্তানদের
উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মৌলিক দায়িত্ব। এ
ক্ষেত্রে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ সংস্থাগুলোর
সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আকিজ-মনোয়ারা ট্রাস্টের
এই শিক্ষাবৃত্তি কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের
সার্বিক অর্জনের স্বীকৃতি এবং তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এ ধরনের প্রণোদনা শিক্ষা জীবন
চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
উপাচার্য আরও
বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট খাতের মধ্যে পারস্পরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও
সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ জরুরি। শিল্প ও শিক্ষার সংযোগ জোরদার করতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্পোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও
বহুমুখী করতে চায়। তিনি এ উদ্যোগের জন্য আকিজ গ্রুপ ও আকিজ-মনোয়ারা
ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এটিকে
বিশ্ববিদ্যালয়-সমাজ-কর্পোরেট অংশীদারিত্বের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে
উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম.
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থী
প্রান্তিক ও অসচ্ছল পরিবার থেকে আগত। সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে অনেক
ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা
সম্ভব হয় না, যার ফলে কেউ কেউ পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে বা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে
ব্যর্থ হয়। এ প্রেক্ষাপটে আকিজ-মনোয়ারা ট্রাস্টের মতো সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ
প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এই
শিক্ষাবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন টিকিয়ে
রাখার একটি কার্যকর মাধ্যম। এ উদ্যোগের জন্য তিনি আকিজ গ্রুপ ও
আকিজ-মনোয়ারা ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে বৃত্তির সংখ্যা
আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কোষাধ্যক্ষ আরও প্রস্তাব করেন,
শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে একটি স্থায়ী ট্রাস্ট
ফান্ড গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা
অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আকিজ উদ্দিনের
সংগ্রামী জীবন ও নেতৃত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে
কোনো একাডেমিক উদ্যোগ, ফ্যাকাল্টি, স্মারক বক্তৃতা বা শিক্ষা কার্যক্রম
চালুর প্রস্তাব দেন।