info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের কবর জিয়ারত কর‌লেন মা বিএনপির প্রার্থী

হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের কবর জিয়ারত কর‌লেন মা বিএনপির প্রার্থী
হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের কবর জিয়ারত কর‌লেন মা বিএনপির প্রার্থী

মাদারীপুর প্রতি‌নি‌ধি: 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ সাবেক আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত কর‌লেন। একে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিবচরের সাবেক আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন। মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই এবং আওয়ামী লীগ সরকারের একজন ঘনিষ্ঠ ও ক্ষমতাধর নেতা।

এই কবর জিয়ারতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিবচরের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যে দমন-পীড়ন, নির্যাতন, গুম-খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছে—তার অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন সাবেক সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী।

বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলেন, যে পরিবার ও গোষ্ঠী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের কবর জিয়ারত করা খাঁটি বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অনুভূতিতে এই ঘটনা আঘাত করেছে। এতে সাধারণ জনগণের মাঝেও ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেসব নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ক্ষমতার সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

তবে এ বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন বিতর্ক বিএনপির ভেতরের ঐক্য ও জনসমর্থনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

না‌দিরা আক্তা‌রের সা‌থে একা‌ধিক বার যোগা‌যোগ ক‌রেও কোন বক্তব‌্য পাওয়া যায়‌নি। উপ‌জেলা বিএন‌পির নেতারও কথা ব‌লে‌নি।