info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

উৎসব, নারীদের লম্বা লাইন ও ছিটেফোঁটা সহিংসতার মধ্যেই যশোরে ভোট

উৎসব, নারীদের লম্বা লাইন ও ছিটেফোঁটা সহিংসতার মধ্যেই যশোরে ভোট
উৎসব, নারীদের লম্বা লাইন ও ছিটেফোঁটা সহিংসতার মধ্যেই যশোরে ভোট

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর:
প্রার্থীদের ভোটদান, প্রশাসনের কড়া নজরদারি, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ, নারী ভোটারদের চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি এবং দীর্ঘ লাইনের মধ্যেই চলছে ভোট। প্রশাসনের দাবি, কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। তবে সকালে সদর উপজেলায় একটি কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

যশোর টিটিসি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ভোট দেন যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ভোট শেষে তিনি বলেন, ছোটখাটো কিছু সমস্যা ছাড়া পরিবেশ শান্ত রয়েছে। ভোটাররা সচেতনভাবে ভোট দেবেন এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির (নাঙ্গল) প্রার্থী মো. খবির গাজী সকাল ৯টায় শংকরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ৬টি আসনে মোট ভোটার ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬, নারী ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।

জেলার ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে ৪ হাজার ৬৭৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

৩০২টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। মাঠে রয়েছেন ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে আছেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, প্রথমবারের মতো শতভাগ ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরাও ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

শার্শার কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, মোট ৪ হাজার ১৪ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৯৮৭ জন নারী। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৬৪৫টি ভোট পড়েছে।

চৌগাছা উপজেলার ৮১টি কেন্দ্রে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১০টার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ভোট পড়ে।

নতুন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম দুই ঘণ্টায় ৩৭৫ ভোট পড়ে। প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ার জাহিদ জানান, সময়ের সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে।

ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। অনেকেই শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।

তবে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-৩ আসনের তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত কর্মী আবু হোসেন (২৫) ও আব্দুল গণি (৫০) আহত হন। আবু হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে বিএনপির সমর্থকরা তাকে মারধর করেন। অন্যদিকে আব্দুল গণিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় চড়-থাপ্পড় মেরে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

উৎসবমুখর পরিবেশ, নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং বিচ্ছিন্ন সহিংসতার মধ্যেই যশোরে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকে অধিকাংশ কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেছে।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর শুরু হবে গণনা। এখন নজর ফলাফলের দিকে।

জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, যশোরের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে এবং মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক টহলে আছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সার্বিকভাবে যশোরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। শতভাগ কেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, সেই অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।