info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

যশোরে আল আমিন হত্যায় উঠে আসছে ভয়ংকর তথ্য, আটক তিন

যশোরে আল আমিন হত্যায় উঠে আসছে ভয়ংকর তথ্য, আটক তিন
যশোরে আল আমিন হত্যায় উঠে আসছে ভয়ংকর তথ্য, আটক তিন

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন গাতিপাড়া গ্রামে পল্লী চিকিৎসক আল আমিন হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নাভারন দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আলাউদ্দিন আলা (৩০), লালন হোসেন (৩২) ও সেলিম মিয়া (৩৪)। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে আলাউদ্দিন ও সেলিম এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। সেলিম কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নালের ভাই বলেও জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি চাঁদা দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় তিন মাস আগে আল আমিনের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি চাপে ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু তিনজন নয়, এর পেছনে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করেছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলায় নড়াইলের মশিউর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলের বিবরণ বলছে, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত ও দ্রুত সংঘটিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নাভারন ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা সক্রিয় থাকলেও কার্যকর দমন হয়নি। আল আমিন সেই চক্রের চাঁদা দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি টার্গেটে পরিণত হন কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

শার্শা থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, আমরা হত্যার মোটিভ ও জড়িতদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।