মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর নেতাদের প্রকাশ্যে
সক্রিয়তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শহীদ মিনারে ফুল
দেওয়া ও দলীয় কার্যালয় খোলা–বন্ধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
নেওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একাধিক
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ মিনারে
ফুল দিতে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে।
গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র হত্যা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে
মুক্ত হন। দীর্ঘদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলের একজন জেলা শীর্ষ নেতার
এভাবে প্রকাশ্যে আসা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে
একই দিনে শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে
দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিক মাতুব্বর। কিছুক্ষণ পর জেলা ছাত্রদল
নেতা নাজমুল হাসান মিলনের নেতৃত্বে তা পুনরায় তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা ছাত্রদল
নেতা নাজমুল হাসান মিলন বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি
হয়েছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা। তাঁর দাবি,
সংশ্লিষ্টদের অনেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মাদারীপুরের
পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, ঘটনাটি তাঁদের নজরে এসেছে। শিবচর থানা
পুলিশের একটি টিম বিষয়টির সত্যতা যাচাই করছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত
আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে প্রকাশ্যে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি মামলা’র
আসামি কিনা বা জামিনে আছেন কিনা—তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।