মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে
একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিন জনের
রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে শহরের আমিরাবাদ এলাকা থেকে
তিনজনের উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিন জনই
রুমের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেছে। তবে এই ঘটনায় মূল কারণ উদঘাটনে কাজ
করছে পুলিশ প্রশাসন।
নিহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার
কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় দাস (৩২) ও তার স্ত্রী ইশা দাস (২৪) এবং
তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শান্তনা
রানী চন্দের বাড়িতে ৩ বছর ধরে ভাড়া থাকেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার
সাতপাড় এলাকার যতীন বাড়ৈর স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। গতকাল রবিবার (১৭ মে)
সন্ধ্যার দিকে মিষ্টি বাড়ৈর দূর-সম্পর্কের চাচাতো ভাই মাদারীপুর সদর
উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় দাস ও তার স্ত্রী ইশা দাস তাদের
৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য বেড়াতে আসেন। পরে রাত
১০ টার দিকে ভাড়া বাসার একটি রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে নিহতরা। পরে
তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে মূল ভাড়াটিয়া মিষ্টি বাড়ৈ পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে
ফোন করে। পরে পুলিশ এসে রাত ১ টার দিকে ঘরের রুমের দরজা ভেঙ্গে শিশু
সন্তানসহ চিন্ময় দাসকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রী ইশা দাসকে
খাট থেকে উদ্ধার। পরে রাতেই লাশ ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যার
জেলা হাসপাতালে পাঠায়। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তর মাধ্যমে প্রকৃত
কারণ উদঘাটন করার দাবী জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে ভাড়াটিয়া মিষ্টি বাড়ৈ
বলেন, ‘আমার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই চিন্ময় দাস তার পরিবার নিয়ে ডাক্তার
দেখানোর জন্য মাদারীপুরে আসেন। এবং আমার বাসায় উঠেন। কিন্তু গতকাল রাতে
তাদের থাকার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে বার বার আমি তাদের ডাকলেও তারা
কোন সাড়া শব্দ করেনি। পরে বাড়ির মালিককে বিষয়টি আমি জানাই এবং পুলিশে খবর
দেই। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে রুমের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার
করে।’
এই বিষয়ে পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনে এই ঘটনার অধিকতর তদন্ত করছেন তারা।
এই
বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, প্রাথমিক
ভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে আমরা আরো অধিকতর
তদন্ত করে দেখছি যে আসলে কী ঘটনা ঘটেছে।