শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত হত্যাকাণ্ডে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যা মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শনিবার জানায়, আটক হয়েছেন শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয় ও সহযোগী শামীম। পুলিশ জানায়, শামীম ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান শনাক্ত করার দায়িত্বে ছিল।
পুলিশ জানায়, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয়। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করেন। এর ফলে প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম গ্রেপ্তার হন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লা আটক করা হয়। রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের-মালিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করলে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
প্রকাশিত তদন্ত অনুযায়ী, হত্যার দিন হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রানা প্রতাপের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয়।
পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও হত্যার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারের জন্য। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা তদন্ত চলছে।
যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার শুক্রবার বেলা ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলেন, আটক হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।