info@desherkhabor24.com

01923-772433

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

01923-772433

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

Save
Link Copied!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ঢাবি প্রতিনিধি:

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহে (LMICs) স্বাস্থ্যসেবার জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে ‘International Conference on Appropriate Technology for Healthcare in LMICs (ICATH-LMIC 2026)’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ ৫ জুলাই ২০২৬ রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শুরু হয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ. এম. সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডায়েবেটিক সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রতিনিধি) ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক বি এইচ ব্রাউন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন। সম্মেলনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী। তিনি উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসানও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, BIBEAT Ltd. এবং রিলেভ্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সীমিত সম্পদ নিয়েও স্বাস্থ্যখাতে যুগোপযোগী ও কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা রাখেন। তিনি দেশীয় উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও উপযোগী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব উদ্ভাবন দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে।

উপাচার্য আরও বলেন, দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রসার, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের উন্মুক্ত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্যখাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করছেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযোগী প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা, নীতি-সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!