মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের নামে, ৭ই মার্চের নামে, শেখ মুজিবের নামে কিংবা অন্য যেকোনো কিছুর নামে যদি ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা তা মেনে নেব না।”
তিনি আজ শনিবার ফরিদপুরে ইফতার মাহফিল পূর্ব এক বক্তব্যে এ কথা বলেন। এনসিপির উদ্যোগে ফরিদপুর বিভাগীয় এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে।
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও গ্রিন সিগনালে ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। সেই উদ্দেশ্যে নানা সংবাদ, তথ্য ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সারাদেশে নানা প্রক্রিয়ায়, নানা পন্থায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নেই। ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই, ইনশাআল্লাহ। এই পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াবো। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ দাঁড়াবে।
“মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ”-মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে, সেই ফ্যাসিস্টরা গত ১৬ বছর ধরে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, ৭ই মার্চের নাম এবং মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে তাদের সকল অপকর্ম—লুণ্ঠন, গণহত্যা, গুম, খুন—সবকিছুকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—এই ধরনের অপচেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। সংস্কারের পক্ষে আসুন, বিচারের পক্ষে আসুন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পক্ষে আসুন।
১৮ দিন বয়সী বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, মেঘ দেখলে বোঝা যায় বৃষ্টি হবে কিনা; দিনের শুরুতেই আকাশ দেখলে বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। এই সরকারের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চায় এবং কীভাবে পরিচালিত করতে চায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সেই নির্বাচনেও কলঙ্ক লাগানো হলো; সেই নির্বাচনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
আমরা সবকিছু মেনে নিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদেশ অনুযায়ী দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল একটি শপথ নিয়েই এই নির্বাচনের পরপরই সবার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা দুটি শপথ নেয়নি এবং নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ এবং যে গণভোট হয়েছে—যেখানে জনগণ ব্যাপকভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে তথা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে—সেই গণভোটের বৈধতা নিয়েও তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ এবং গণভোটের বৈধতাকে তারা আদালতে নিয়ে গেছে। তাদের সরকারদলীয় আইনজীবীরা আদালতে গিয়ে এর বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি, দুদককে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও মব তৈরি করে তার প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, বিগত আমলে আমরা শেখ হাসিনার শাসনামলে দেখেছিলাম, কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো—বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ—সবকিছুকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। সেই একই প্রবণতা আমরা এই সরকারের মাত্র এক মাসের শুরু থেকেই দেখতে পাচ্ছি।
সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এই সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় সংসদে এবং সংসদের বাইরে থাকতে চেয়েছি, এখনো চাই। কিন্তু সেটার জন্য সরকারকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ অধিবেশন হবে। সেই অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ