info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

নারীদের ঘরে বন্দি করার রাজনীতি এদেশে চলবে না- তারেক রহমান

নারীদের ঘরে বন্দি করার রাজনীতি এদেশে চলবে না- তারেক রহমান
নারীদের ঘরে বন্দি করার রাজনীতি এদেশে চলবে না- তারেক রহমান

শাহারুল ইসলাম ফারদিন,যশোর প্রতিনিধি:

নারীদের ঘরে বন্দি করে, অসম্মান করে কিংবা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভয় দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না, এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে যশোরের নির্বাচনী জনসভা থেকে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের কী পরিণতি হবে তা কল্পনাই করা যায়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা বলে ইসলাম কায়েম করবে। অথচ আমাদের নবী (সা.) এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজে একজন ব্যবসায়ী ও কর্মমুখী নারী ছিলেন। যে দলের নেতা আজ নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের কীভাবে অপদস্ত করতে পারে তা ভাবাই যায়।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী একাত্তরে ওই রাজনৈতিক শক্তির পূর্বসূরীরা নারীদের সঙ্গে কী আচরণ করেছিল। সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে থেকেই নারীদের ঘরে আটকে রাখার মানসিকতা প্রকাশ করছে। বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তারা নারীদের চোখে দেখার ভাষা ঠিক করতে পারে না, আবার রাতের অন্ধকারে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়।

তিনি বলেন, যে দল নারীদের নিয়ে এভাবে কথা বলে, তাদের হাতে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না। যারা মানুষের মর্যাদা বোঝে না, যাদের আত্মসম্মানবোধ নেই, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ার পর সেই দল এখন ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’ হওয়ার অজুহাতে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। জনগণ এসব নাটক বুঝে গেছে।

জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, একটি দল গ্রামে গ্রামে তাদের নারী কর্মীদের পাঠাচ্ছে সাধারণ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করতে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটা কেন? তারা কি রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্ব পালন করছে? নাকি অসৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে? 

তারেক রহমান বলেন, হয়তো তারা কাউকে সাময়িকভাবে কিছু টাকা বিকাশে পাঠাবে, কিন্তু পরে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ধরনের কাজ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কখনো সৎ লোকের শাসন কায়েম করা যায় না। নারীদের উন্নয়নে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করেছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। নারীরা হবে স্বাবলম্বী, সম্মানিত ও নিরাপদ। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি কখনো নারীদের ঘরে আটকে রাখার নয়, বরং নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়ার রাজনীতি।

বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিমদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়া হবে। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি আমরা করি না।

তারেক রহমান যশোর অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেওয়া হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তিনি আরও বলেন, যশোরের গদখালির ফুল বিশ্ববাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো চালু করা হবে।

জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

এর আগে দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই সমাবেশস্থল পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মাঠে প্রবেশ করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।