মো. আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের
তাড়াইলের মেধাবী শিক্ষার্থী, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক অনন্য
নাম ছিল জিলফা জাহান ইন্নি। তাঁর প্রশ্নবৃদ্ধ মৃত্যু এক বছর পেরিয়ে গেলেও
স্মৃতি ও কর্মে আজও তিনি অমলিন।
তাঁর
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাড়াইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণসভা,গুণীজন পদক
প্রদান, ‘স্মৃতি চিহ্ন’ শীর্ষক স্মারক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন ও দোয়া
মাহফিল।
শুক্রবার (১৬
জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় উপজেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ
অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাহিত্যপ্রেমী,সাংবাদিক,সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি বাদল চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য
প্রদান করেন সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন ও উদ্বোধন করেন কবি মতিয়ারা মুক্তা।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড.শহীদ মনজু। অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক দেওয়ান ফরুক দাদ খান।
বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রবীন্দ্র সরকার, হাজী দেশোয়ার হোসেন
ফুল মিয়া, মুকুট রঞ্জন দাস মধু, খায়রুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন জুয়েল,
জুবায়ের আহমেদ জুয়েল, আমিনুল ইসলাম রিপনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা
বলেন, জিলফা জাহান ইন্নি ছিল মানবিকতা, সাহিত্য ও সমাজ চিন্তার এক উজ্জ্বল
প্রতীক। সে নিঃশব্দে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে
সমাজকে আলোকিত করেছিল। তাঁর আদর্শ ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার
উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে
জিলফা জাহান ইন্নির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গুণীজনদের মাঝে
সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় এবং ‘স্মৃতি চিহ্ন’ শীর্ষক স্মারক সংকলনের মোড়ক
উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন জিলফা জাহান ইন্নি স্মৃতি পরিষদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল মাটির মা ফাউন্ডেশন, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
এসময়
জিলফা জাহান ইন্নি'র পিতা ছড়াকার ও সাংবাদিক ছাদেকুর রহমান রতন বলেন, আমি
যখন সেখানে পৌঁছাই তখন দেখতে পাই একটি প্লেটে এক লুকমা খিচুড়ি মাখানো, তার
মানে আমার মেয়ে খেতে বসেছিল এবং ওই সময় তাকে কেউ হত্যা করেছে পরে তার
লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইন্নি রুমে কয়েকটি অপরিচিত
এনআইডি কার্ড, স্কুল ব্যাগ ও বই সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া
যায়। তখন উপস্থিত সকলেই শোকে কাতর হয়ে পড়েছিল। তিনি ও তার পরিবার এই
হত্যার বিচার চান।
উল্লেখ্য,
জিলফা জাহান ইন্নি ভবিষ্যতে মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য নার্স হওয়ার
চিন্তা করে। নার্সিং এর উপর শিক্ষা অর্জনের জন্য রাজশাহীর বহরমপুর মমতা
নার্সিং ইনস্টিটিউট নামে প্রাইভেট নার্সিং কলেজে ভর্তি হয় এবং ওইখানেই
একটি ভাড়া বাসায় সে থাকতো। কিন্তু গত বছর জানুয়ারির ১৬ তারিখ জিলফা
জাহান ইন্নির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। জিলফা জাহান ইন্নি'র পিতা ছড়াকার ও
সাংবাদিক ছাদেকুর রহমান রতন ও তার আত্মীয়স্বজন সেখানকার পরিস্থিতি দেখে
দাবী করেন, জিলফা জাহান ইন্নি'কে কেহ নির্মমভাবে হত্যা করে নিহত ইন্নিকে
দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।