info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

ঢাবি উপাচার্যকে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

ঢাবি উপাচার্যকে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত
ঢাবি উপাচার্যকে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

ঢাবি প্রতিনিধি:

সিট বণ্টন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ ও শাহবাগ থানায় হামলাকারী ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে ঢাবি উপাচার্যকে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি প্রদান ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৫ জুন, ২০২৬ (সোমবার) সন্ধ্যা ৬.০০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম মহোদয়ের সাথে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান এর নেতৃত্বে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এই সাক্ষাতে অংশ নেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)।

মতবিনিময়কালে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সংকট নিরসনে একটি স্বচ্ছ, শিক্ষার্থীবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদী সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।"

নেতৃবৃন্দ প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির খসড়া সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "বর্তমানে অনার্সে ২ বছর এবং মাস্টার্সে ১ বছর রি-অ্যাডমিশনসহ হলে আবাসিক সুবিধা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে হলে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা। বর্তমানে হলে ৭টি রেগুলার ব্যাচ অবস্থান করছে। এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে হলে একসঙ্গে ১০টি ব্যাচ অবস্থান করবে এবং কেউ হল ছাড়তে চাইবে না। রি-অ্যাডমিশনভিত্তিক হলে অবস্থানের সুযোগ বিস্তৃত হলে দীর্ঘমেয়াদে হলে থাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে, যা নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা প্রাপ্তিকে চরমভাবে সীমিত করবে।"

নেতৃবৃন্দ আরও যোগ করেন, "নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকে, তাই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। জুলাইয়ের পর বর্তমান অবস্থায় কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ফলে ২৪-২৫ সেশনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে সিট পেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ২৫-২৬ সেশনের ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীও হলে সিট পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ না করা হলে হলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।"

নেতৃবৃন্দ বলেন, "শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলাকারীদের ব্যাপারে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য বাজে উদাহরণ । জুলাই-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ক্যাম্পাসে অপরাধ প্রবণতা আরও বহুগুণ বাড়বে। এর ফলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠবে, যার দায় বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জগন্নাথ হলে রুমে ঢুকে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষী ছাত্রদল ক্যাডারদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।