info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

ফরিদপুরে চার আসনে বিএনপি-৩, জামায়াত-১ বিজয়ী

ফরিদপুরে চার আসনে বিএনপি-৩, জামায়াত-১ বিজয়ী
ফরিদপুরে চার আসনে বিএনপি-৩, জামায়াত-১ বিজয়ী

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা  বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরণের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 
এদের মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন। চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই প্রথম জামায়াত বিজয় অর্জন করলেন জানা গেছে। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা চলে। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। 
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কন্টোলরুমে বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা। 
ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটির বিজয়ী প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা মধুখালী উপজেলার কালপোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সাতৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। 
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে শামা ওবায়েদ বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম লস্করদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী বাহিরদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। 
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের বিজয়ী প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ শহরের সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ-এ সকালে ভোট প্রদান করে ও জামায়াতের প্রফেসর আবদুত তাওয়াব শহরের চুনাঘাটা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ৫১ হাজার ৬৩৮ ভোট বেশি পেয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল সদরপুরে ও জামায়াতের মাওলানা সরোয়ার হোসেন ভাঙ্গায় ভোট প্রদান করেন। এখানে ৮জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্¦িতা করেছেন। 
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিশৃঙ্খলভাবে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনী নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।