Breaking News
মাদারীপুরে এক প্রবাসীকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে ৫ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ

মাদারীপুরে এক প্রবাসীকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে ৫ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ

কে এম, রাশেদ কামাল,মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার এক ইতালি প্রবাসীকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে ৫ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার কাছ থেকে একটি বন্টন দলিলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় খোদ উপজেলা সাব রেজিষ্টার জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা রেজিষ্টার ও থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। 


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে মো.লিটন মোল্লা ও মো. দুলাল মোল্লা একটি দলিল সম্পাদন করে। সেই দলিলটি মাদারীপুর সদর উপজেলা সাব রেজিষ্টার মিজানুর রহমান ও দুলাল মোল্লাসহ ৭ জনের যোগসাজসে টেম্পারিং করা হয়। দলিল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে লিটনের স্ত্রী নাজমিন আক্তার বাদী হয়ে মাদারীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর আসামী পক্ষরা লিটনকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছে। পরে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলা সাব রেজিষ্টার মিজানুর রহমান লিটনকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তার অফিস কক্ষে। এসময় লিটনের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলার আসামীসহ ১০/১২জন লোক উপস্থিত। পরে লিটনকে ভয়ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি দিয়ে বুধবার রাত ১২টার দিকে স্টাম্পে সই রাখে। সেই স্টাম্পে কি লেখা আছে তাও পড়তে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন লিটন। পরে বৃহস্পতিবার সকালেস সাব রেজিষ্টার মিজানুর রহমান লিটনকে ডেকে স্টাম্পের ফটোকপি দেয়া হয়। এরপর লিটন জানতে পারেন তাকে দিয়ে দুলাল মোল্লার নামে একটি বন্টন দলিল এবং স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত দলিল করা হয়েছে। সেই দলিল নম্বর ৬৮৯৬/২০২৩। 

ভুক্তভোগী লিটন বলেন, ‘আমাকে ডেকে নিয়ে ৫ ঘন্টা আটকে রেখে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে সই রেখে। এখন শুনি বন্টন দলিল ও আমার স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলা প্রথ্যাহারের দলিল করা হয়েছে। রাত ১২টার সময় একজন অফিসার কিভাবে দলিল করে? তিনি আমার সাথে অন্যায় আচারন করেছেন। আমি এর বিচার চাই।’ উধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবী অফিসের সিসি টিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তদন্ত করা হোক। 

মাদারীপুর জজকোর্টে আইনজীবি জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, অফিস কক্ষে ইচ্ছা বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আটকে রেখে দলিল সম্পাদন বেআইনি। রাত ১২টার একজন অফিসার অফিসে কেন থাকবেন? আমরা অফিসের সিসি টিভির ফুটেজ চেক করে বিচার দাবী করছি। 

এব্যপারে অভিযুক্ত সাব রেজিষ্টার মিজনিুর রহমান গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তবে জেলা রেজিষ্টার মুনিরুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।