মো. আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের
তাড়াইল উপজেলার তেউরিয়া গ্রামে ৯ম শ্রেণির এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুকে
কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে
হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর বাবা ৭
জনের নাম উল্লেখ করে ও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে আদালতে হত্যা মামলা
দায়ের করেছেন। মামলা নং-০৮, তারিখ- ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা- ৩০২/৩৪।
আসামীরা
হলেন, ১। আজিম খান (২১), ২। জুয়েল খান (২৪), ৩। সোহেল খান (২৬), ৪। সুরুজ
খান (৫৫), ৫। আছমা বেগম (৪২), ৬। রিতা বেগম (৪২), ৭। চান মিয়া খান (৫৭),
সর্ব সাং- তেউরিয়া, তাড়াইল।
মামলা সূত্রে
জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ (বুধবার) দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে
তেউরিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে মোছা. ছনিয়া আক্তার (১৫) এর ঝুলন্ত
মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছনিয়া স্থানীয় একটি আলিম মাদ্রাসার ২০২৫-২০২৬
শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের
বাবা মো. তারু খান স্বাক্ষরিত অভিযোগে তিনি লিখেন যে, দীর্ঘদিন ধরে আপন
ভাতিজা
সোহেল খান আমার মেয়ে মোছা. ছনিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মেয়ের বয়স
কম হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত
হয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি শুরু করে। ঘটনার দিন মৃত্যুর প্রায় আধা
ঘণ্টা আগেও মেয়ের সঙ্গে আমার ও পরিবারের ভিডিও কলে কথা হয়েছে এবং সে
স্বাভাবিক অবস্থায় রান্নার কাজ করছিল। পরে দুপুর অনুমান ১.১৭ মিনিটে
প্রতিবেশীদের মাধ্যমেে আমি ও আমার পরিবার দ্রুত বাড়িতে আসার সংবাদ পাই।
তাহারা একেকজন একেকরকম কথা বলতেছিল। কেউ বলছে তোমার মেয়ের দূর্ঘটনা হয়েছে,
কেউ বলছে তোমার মেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে, কেউ কেউ বলছে তোমার মেয়ে স্ট্রোক
করেছে ইত্যাদি। আমি বাড়িতে আইসা দেখি যে আমার মেয়ের মরদেহ থানায় নেওয়া
হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরো লিখেন যে, মোছা.
ছনিয়ার মরদেহ ধোয়ার সময় দেখতে পায় যে, সনিয়ার থুতনির নিচে গুরুত্বর
রক্তাক্ত জখম আছে। এছাড়াও গলার নিচে হাতের ছাপ আছে যা কালচে রক্তজমাট হয়ে
আছে ও পিঠের পিছনে একাধিক ছিলাযুক্ত জখম আছে এবং ডান ও বাম হাতে একাধিক
জায়গায় ফোলা জখম আছে। যাহা প্রমাণ করে যে, আমার মেয়ে মোছা. ছনিয়াকে খুন
করিয়া কৌশলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। কারণ আমার মেয়ে মাদ্রাসায়
আসা-যাওয়ার সময় আসামীগণ দীর্ঘদিন যাবৎ খুবই বিরক্ত করে আসছিল। এমনকি ১নং,
২নং ও ৩নং আসামী সময়ে অসময়ে আমার ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়াও আমার মেয়ে মোছা.
ছনিয়াকে বিরক্ত করিত।
মোছা. ছনিয়াকে হত্যা
করা হয়েছে দাবী করে তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন,
আমার ছোট ছেলে আবুবক্কর
আমার মেয়ে মোছা. ছনিয়ার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার চেচামেচি করতে
থাকলে
১নং, ২নং ও ৩নং আসামী আমার ছোট ছেলে আবু বক্করকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে বাড়ি
থেকে বাহির করিয়া দিতে চাইলে আমার ছেলে আরো জোড়ে চিৎকার করতে থাকে। তখন
আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে
১নং, ২নং ও ৩নং আসামী দ্রুত ছনিয়ার মরদেহ নামিয়ে খাটের উপরে শুয়িয়ে রাখে।
আসামীগণ আমাদের জন্য কোনো অপেক্ষা না করিয়া নিজের দোষ আড়াল করতে তড়িঘরি করে
পুলিশের মাধমে ছনিয়ার মরদেহ থানায় দিয়ে দেয়। তাছাড়া আমার মেয়ে মোছা.
ছনিয়ার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইলটি ৫নং আসামী আছমা বেগম চুরি করিয়া গোপন
করিয়া রাখে যা এখনো অবদি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলটি উদ্ধার হলে অনেক
রহস্য উন্মোচন হবে বলে দাবী করেন ছনিয়ার বাবা।
সরেজমিনে
গিয়ে জানা যায়, কিশোরী মোছা. ছনিয়ার
রহস্যজনক
মৃত্যুর ঘটনাটি সঠিক। কিন্তু এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সে বিষয়ে বিস্তারিত
কেহই বলতে পরেনি। কেহ বলছেন, আহত্মহত্যা আবার কেহ বলছেন, পরিকল্পিত হত্যা।
তবে কিশোরী ছনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ থেকে শুরু করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসা
পর্যন্ত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এমনকি ছনিয়ার ব্যবহৃত
এন্ড্রয়েড
মোবাইলটি নিখোজ হওয়ারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
মোবাইল
গোপন করার বিষয়ে অভিযুক্ত আছমা বেগমকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন, ছনিয়ার
মরদেহ খাটে নামানোর পর আমি আবু বক্করের কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ও একটি
এন্ড্রয়েড
মোবাইল নিয়েছি এটা সত্য। আমি এই দুইটি মোবাইলই আমার ঘরের বিছানার উপর
রেখেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই যে, বাটন মোবাইল রেখে
এন্ড্রয়েড মোবাইলটি কে বা কাহারা নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।