মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের
শিবচর জমি নিয়ে বিরোধ ও পূর্ব সংর্ঘের ঘটনায় মামলার আসামীরা আদালতে হাজিরা
দিয়ে এসেই প্রতিপক্ষ বিডিআর সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে আসামীপক্ষের দাবী তারা আদালতে হাজিরা দিয়ে
বাড়ি ফেরার পথে তাদের উপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। উভয় পক্ষের
হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার
শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা
বিডিআর সদস্য নাসিরউদ্দিন মাতুব্বরদের সাথে একই এলাকার জসিম শিকদার, রফিক
শিকদারদের সাথে জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ ছিল। এনিয়ে তাদের সাথে সংঘর্ষের
ঘটনাও ঘটে। এসকল ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে
নাসিরউদ্দিন ও তার ভাইয়েরা। বুধবার (২৫ মার্চ) দুটি মামলায় মাদারীপুর
আদালতে হাজিরা দিতে যায় আসামীপক্ষ। হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে চরমুগরিয়া
এলাকায় আসামীপক্ষের উপর বাদিপক্ষের নুরুজ্জামান মাদবর ও তার লোকজন হামলা
চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে করে অভিযোগ করেন তারা। এদের মধ্যে আহত ২ জনকে
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে মামলার বাদীপক্ষ
অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে এসেই আসামীপক্ষের
লোকজন বিআরসদস্য নাসিরউদ্দিন, তার ভাই নুরুজ্জামানদের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র
নিয়ে হামলা চালায়। ঘরবাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি
করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তার মা মমতাজ বেগমকে পিটিয়ে
গুরুতর আহত করে। গুরুতর অবস্থায় মমতাজ বেগমকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেছে।
নাসির উদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “আমি একজন বিডিআর কর্মকর্তা
হয়েও নিজের বাড়িতে নিরাপদ নই। আমাদের মামলায় ওরা আজ মাদারীপুর আদালতে
হাজিরা দিতে গিয়েছিল। হাজিরা দিয়ে এসেই আমাদের বাড়িতে দলবেঁধে দেশীয় অস্ত্র
নিয়ে ওরা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। আমার মাকে মেরে আহত করেছে। আমরা
একটি রুমের ভিতর দরজা বন্ধ করে কোনমতে প্রান বাঁচিয়েছি। আমার প্রায় ১০ লাখ
টাকার ক্ষতি করেছে ওরা। আমি এর বিচার চাই। আর আমরা কেউ আদালতে যাইনি তাহলে
ওদের উপর কিভাবে হামলা করবো। এটা ওদের সাজানো কথা।
মামলার
আসামীপক্ষের রফিক বলেন, আমরা মাদারীপুর আদালতে হাজির হয়ে ফেরার পথে
ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে নুরুজ্জামান আমাদের উপর হামলা করেছে। আমাদের দুইজন
এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমাদের উপর হামলার খবর পেয়ে এলাকার ছোট ছোট
ছেলে মেয়েরা নাসিরদের বাড়িতে কয়েকটি ইট পাটকেল ছুড়েছে বলে শুনেছি।
শিবচর থানার ওসি আমির হোসেন সেরনিয়াবাত মুঠোফোনে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।