মো. আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ভরে উঠেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার প্রতিটি বাজার । কিন্তু সব প্রকার সবজির দাম উর্ধ্বমুখি। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে সবজির দাম এখন ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে গেছে অনেক।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সরজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে ভোক্তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শীত হলো সবজির মৌসুম, কিন্তু রমজান মাস উপলক্ষে সবকিছুর দামেই ঊর্ধ্বমুখি। বিশেষকরে, লেবু, দুধ, চিনি, ছোলা বুট ও ডাল, বেগুন, আলু, পেঁয়াজ ও মসলার মতো অনেক নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে সীমাহীন কষ্টে স্বল্প আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দর ওঠানামার বিষয়টি নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছিল, সে জন্য দাম একটু কম থাকলেও রোযা উপলক্ষ্যে সবকিছুর দাম ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
তাড়াইল সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু কেজি ২৩০ টাকা, শিম ৪০-৬০, বেগুন ৮০, করলা ৮০, মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, ফুলকপি পিস কেনা যাচ্ছে ৪০, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, কাঁচামরিচের কেজি (বিন্দু) ১৯০ টাকা। টমেটো ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, ডায়মন্ড আলু ১৮ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ২০০ টাকা, আদা ১৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, হলুদ ৩২০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ১০ টাকা, শসা ৯০ টাকা, পেঁপে ৪০টাকা, গাজর ৪০টাকা, ধনিয়া পাতা ৩০টাকা।
খেজুর কেজি ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, প্যাকেটজাত আটা ৫৫ টাকা, মুশুরির ডাল ১৩০ টাকা, ছোলার বুট ৮০ টাকা, মুগের ডাল ১৪০ টাকা, ডিম ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে চাল কেজি প্রতি কাটারি ৭০ টাকা, ইন্ডিয়ান ৭৭ টাকা, ৪৯ চাউল ৫৫ টাকা, বিআর(২৮) ৬৫ টাকা, বিআর (২৯) ৬০ টাকা, কাটা চাল ৪৫ টাকা, আতব ৫০ টাকা, পোলাও ১০০-১১০ টাকা।
এদিকে মাংসের বাজারে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা, কক ২৭০ টাকা, লেয়ার কক ২৮০ টাকা, ক্লাসিক (সোনালী) ৩০০ টাকা, কালার বাট ২৭০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসি ১ হাজার কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের বাজারে আগের তুলনায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাজার করতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম উর্ধ্বমুখি। বাজার করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে সকল পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে আমরা যারা নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক তাদের বাজার কিনে খেয়ে বেঁচে থাকার মতো অবস্থা নেই।
তারা আরো বলেন, গরু ও খাশির মাংসের কাছে তো অনেক আগে থেকেই ঘেষা যাচ্ছে না। মধ্যবিত্তের মাংসের খাবার বলতে ব্রয়লার মুরগী তারও দাম বেড়ে গেছে। ফলে রোজার মধ্যে মুরগীর মাংসও কিনতে পারছি না। সবকিছু আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার করতে আসা কুতুব উদ্দীন সহ আরো অনেকেই বলেন, আমাদের দুর্দশার শেষ নেই। আয় বাড়েনি অথচ সবকিছুর দাম উর্ধ্বমূখী। মাছ, মাংসের বাজারেও আগুন। দ্রব্যমূল্যের এতো দাম যে, যা কিনতে বাজারে আসছি তার কিছু কিনেছি আর বাকিগুলো না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের কাচা বাজার ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহমাদ সহ আরো অনেকেই বলেন, বর্তমানে কাঁচা বাজারের সবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম একটু বেশি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এর নিকট দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে করতে রাজি হননি। তবে দায়সারা জবাবে এটুকু বলেন যে, নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে মাত্র, যদি কোনো সিদ্ধান্ত আসে তবে পালন করবো। তাছাড়া সরকারি চলমান আইন অব্যাহত থাকবে।