ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা আজ ০২
এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক ড. নৌশিন পারভীন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নবীনদের পক্ষে মাহিন আন্দালিব এবং বিদায়ীদের পক্ষে নুরজাহান শোভা অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুন নাহার ঝিনু অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ‘কসমোপলিটান’ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সকল স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং বিষয়ের গভীরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে বিষয়ের চেয়ে দক্ষতা ও পারদর্শিতা বেশি মূল্যায়ন করা হয়। তাই কর্মক্ষেত্রের উপযোগী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্য অর্জনের কোনো ‘তাবিজ’ বা সংক্ষিপ্ত পথ নেই। পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিজের প্রচেষ্টায় সফলতার শিখরে নিয়ে যায়। হতাশ হয়ে কোনোভাবেই মূল্যবান সময় নষ্ট না করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, সমাজে ভালো মানুষের খুব অভাব। একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করার চেয়েও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হওয়া বেশি জরুরি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার আহ্বান জানান।
পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে সহায়ক ভুমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের মেধাক্রমে প্রথম দিকের ১১জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া, মাস্টার্সের ৫টি শাখায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী প্রথম ৩জন করে মোট ১৭জনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।