info@desherkhabor24.com

+8801821554477

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

ঢাবিতে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত

ঢাবিতে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত
ঢাবিতে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত

ঢাবি প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, জাতীয় পতাকা কোনো সাধারণ কাপড় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক। আজ ০২ মার্চ ২০২৬ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এসময় প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন আ স ম আব্দুর রব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেন নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তার বক্তব্যে জাতির ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও মাইলফলকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের এই মাইলফলকগুলোই একটি জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে এবং আমাদের ঐক্য, চেতনা ও দায়িত্ববোধকে শাণিত করে।

তিনি জাতির গৌরবময় অভিযাত্রায় অবদান রাখা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জাতি হিসেবে তাদের অবদান আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের কাছে আমাদের ঋণ স্বীকার করি।

উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবসময় দেশ ও জনগণের পাশে থাকবে। বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, এর কোনো বিকল্প নেই; এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। জাতীয় পতাকা আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সবুজ রং আমাদের সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ ও তারুণ্যের প্রতীক, আর লাল বর্ণ শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পায়। সবুজ জমিনে লাল বৃত্ত ও সোনালি মানচিত্র সংবলিত সেই পতাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রত্যয়ের প্রতীক। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল সার্বভৌমত্বের প্রতীক নয়; এটি তারুণ্যের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও বহন করে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে সাহসিকতার সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাধ্যমে। তবে পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়; বরং যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল-সার্বভৌম, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা-তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস ও আত্মত্যাগের দৃশ্যমান প্রতীক। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় পতাকা দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত, দেশের গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।