বৈদ্যুতিক পিলারে ভাতছালা-মুনিগঞ্জে বেরিবাঁধ সংস্কার কাজ ব্যহত

শেখ সোহেল, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি‘র চিঠি চালাচালি চললেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এগোচ্ছেনা বাঁধ সংস্কার কাজ। বাগেরহাটে পল্লী বিদ্যুতের খুটি ও বৈদ্যুতিক তারে ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেরিবাঁধ সংস্কার কাজ ব্যহত হচ্ছে। এবং নাজিরপুর উপ প্রকল্পের অধীনে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাতছালা থেকে মুনিগঞ্জ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করার কথা রয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি মৌসুম শুরু হওয়ার আগে কাজ না হলে, আবারও পুরোনো ভোগান্তিতে পড়বেন এলাকার মানুষ। বেড়িবাঁধ কাজে সৃষ্টি হবে দীর্ঘসূত্রিতা। এসব বিষয় চিন্তা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুটি ও তার অপসারণ করে বাঁধ সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ‌।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেরিবাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের উপর ও বাঁধের পাশে থাকা বেশকিছু খুটি ও বৈদ্যুতিক তার অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক।

চিঠির উত্তরে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম প্রকৌশলী পারভেজ আলম পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানান, খুটি উত্তোলন, পুনঃস্থাপন ও অন্যান্য মালামাল বাবদ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৯৫ টাকা প্রদান করতে হবে। পরে ৭ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক আবারও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি প্রদান করেন।

ওই চিঠিতে বলা হয় বৈদ্যুতিক খুটি ও তার অপসারণ এবং প্রতিস্থাপনের জন্য এই প্রকল্পে কোন টাকা বরাদ্দ নেই। এই খাতে টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুকূলে টাকা জমা দেওয়া হবে। এছাড়া চিঠিতে আরও বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অপরিকল্পিতভাবে বাঁধের উপর খুটি স্থাপন করেছে। যার কারণে বাঁধ নির্মান কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুটি রয়েছে। সেই সাথে বেশকিছু বৈদ্যুতিক তার অনেক নিচু রয়েছে।

স্থানীয় চরগ্রামের শুকুর আলী বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে আমাদের এই বেরিবাঁধটি নষ্ট ছিল। যার কারণে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে আমাদের জীবন। বাঁধ নির্মান শুরু হওয়ায়, আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দেখছি নানা কারণে বার বার কাজ ব্যহত হচ্ছে।

নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, বেরিবাঁধের কারণে আমাদের গাছ, ঘর বাড়ি ও জমি নষ্ট করছি। তারপরও পল্লী বিদ্যুতের খুটির কারণে কাজ ব্যহত হচ্ছে। আমরা চাই যে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হোক।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (সদর-কারিগরি) মোল্লা আবু জিহাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক খুটি ও লাইন স্থানান্তরের জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে ক্ষতিপূরণের জন্য চিঠি দিয়েছি। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সমাধান হলে খুটি ও লাইন স্থানান্তর করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পল্লী বিদ্যুতের খুটি স্থাপন করায় বাঁধ সংস্কার কাজ ব্যহত হচ্ছে। এজন্য আমরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দিয়েছি। তারপরও তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। যার কারণে সময়মত কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *