বগুড়ার শেরপুরে বন বিভাগের কর্মকর্তা জানে না বৈধ করাত কলের সংখ্যা

মাসুম বিল্লাহ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বন বিভাগের কর্মকর্তা জানে না কয়টি করাতকল। সেই করাতকল গুলোর লাইসেন্স আছে কিনা সেটিও জানেননা। এমন জানিয়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মধু সুধন বর্মন। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বনবিভাগের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ৬০ থেকে ৭০ টিরও বেশী করাতকল। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নজরদারী না থাকায় উপজেলার যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব করাতকল। ফলে উজাড় হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব গাছপালা। সেই সাথে পরিবেশ মারাত্বক ভাবে হুমকিতে পড়ছে।

শেরপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মধু সুধন বর্মন জানান, করাতকল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নিতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। কিন্তু, শেরপুরে প্রায় ৬০-৭০টি করাতকলের মধ্যে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কয়টি আছে তিনি জানেন না। এবং তালিকায় যথাযথ অনুমতি রয়েছে কয়টি সেটিও জানেননা। এমন দায়সাড়া কাজ করিয়ে যাচ্ছেন এই বন বিভাগ কর্মকর্তা। তিনি জানান, আমি কোন কাজ করতে গেলেই আমার জেলা কর্মকর্তা বাধা হয়ে দাঁড়ান। যার ফলে আমি কোন কিছুই জানিনা। সব কাগজপত্র জেলায় আছে। এবং একজন কর্মকর্তাকে অফিসে আসা ছাড়াই ৩ মাস বেতন দিয়েছেন। সেই কথা বলাতেই আমাকে চরম অপমানও সইতে হয়েছে এভাভেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেরপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মধু সুধন বর্মন।

সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে উপজেলার উত্তরে শেরউড স্কুল এন্ড কলেজের সামনে, কলেজরোড, গাড়িদহ, শেরুয়া বটতলা বাজার এলাকায়সহ রানীরহাট রোড, ধুনট-শেরপুর রোড, মির্জাপুর টু সুঘাট রোডসহ আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল।
এসব করাতকল দীর্ঘ ৩ থেকে ১২ বছর অতিবাহিত হলেও পরিবেশ বন বিভাগের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধ ভাবে চলছে।
লাইসেন্স না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ছ’মিল ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, লাইসেন্সের জন্য টাকা কাগজ পত্র সবই দিয়েছি কিন্তু বন বিভাগ কর্মকর্তার উদাসিনতায় আমার ফাইলটি হারিয়ে ফেলে। আবার ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন বনকর্মকর্তা। এমন দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ ছ’মিল মালিক লাইসেন্স করতে পারছেনা তাই আজ বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
শেরউড স্কুল এন্ড কলেজের সামনে করাতকল। এতে চলাচলেও অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। এবং করাতকলের কাঠের গুঁড়ো উড়ে স্কুলে আসছে এতে শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ঝুকি বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কিছুই বলতে পারছেন না।

অন্যদিকে, কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এসব কলে অবৈধভাবে চোরাই কাঠও কাটা হচ্ছে। অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে চালাচ্ছেন এই করাতকলগুলো। এতে শব্দদূষণসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য।

আইন বলছে, করাতকল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-র আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, করাত-কল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ফি বাবদ ২০০০ (দুই হাজার) টাকা “১/৪৫৩১/০০০০/২৬৮১ (বিবিধ রাজস্ব ও প্রাপ্তি)” খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যে কোন সরকারি ট্রেজারীতে জমাপূর্বক উহার ট্রেজারী চালান আবেদনপত্রের সহিত সংযুক্ত না করিলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হইবে না। সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে ছ’মিল স্থাপন করা যাবে না। বিধিমালায় আরো বলা আছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নিষিদ্ধ স্থানে ছ’মিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি তা না করা হয় তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওইসব কল বন্ধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু আইন আছে প্রয়োগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম জানান, শিগগিরই অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *