পবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রম চলছে কচ্ছপ গতিতে

আবু হাসনাত তুহিন, পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হলেও করোনার করাল গ্রাসে কচ্ছপের গতিতে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। করোনার দীর্ঘ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় রিকোভারি প্লান হাতে নিয়ে বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটালেও এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে পড়েছে পবিপ্রবির একাডেমিক কার্যক্রম। চার(০৪) মাসে সেমিস্টার করার ঘোষণা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। একসময় দেশের সেশনজট মুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিতি থাকলেও এখন সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

জানা গেছে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একই সেশনের শিক্ষার্থীরা যেখানে ২য়, ৩য় কিংবা ৪র্থ বর্ষ শেষ করে ফেলেছে সেখানে পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টারেরও বেশি পিছিয়ে রয়েছে। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও শোচনীয় বলে জানা গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মনে হতাশার জন্ম নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে সকল দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। রিকোভারি প্লান বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শিক্ষকদের ধীরগতির মানসিকতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোনো রকম তাগিদ না দেয়ার মানসিকতাও বড় অংশে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা পদ্ধতিও অনেকাংশে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো স্ব- স্ব বিভাগ কিংবা অনুষদের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় পরীক্ষা কার্যক্রমে বিলম্ব যার একটি বড় কারণ। পরীক্ষার ফল বিলম্বও বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রমে অনেকটা পেছনে নিয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে জানান, যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় করোনার দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৪ মাসে সেমিস্টারের বাস্ববায়ন করল এবং সে অনুযায়ী আমাদের থেকে অনেক এগিয়েও গেছে। সেখানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রিকোভারি প্লান ঘোষণার পরও সেটি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। এছাড়াও তাদের দাবি নিয়মিত ক্লাস নিয়ে যথাসময়ে কোর্সগুলো শেষ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাল মিলিয়ে করোনার ক্ষতি পোষাতে একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং সেইসাথে ৪ মাসে সেমিস্টার পদ্ধতির রিকোভারি প্লান বাস্তবায়ন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *