চা শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগাদান করলেন ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি

ঢাবি প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জে চলতে থাকা দীর্ঘ দিনের চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী বৃদ্ধির আন্দোলনে যোগদান ও একাত্মতা পোষণ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সম্পাদক আব্দুল হক রাব্বি বলেন চা বাগান মালিকরা দিনে দিনে দানব হয়ে উঠেছে, এদের গলা চেপে ধরার সময় এটাই।

গত রবিবার (২১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এ সময়ে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য চেষ্টা করা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার শোষিতের পক্ষে তথা শ্রমিকদের পক্ষেই রয়েছেন ৷ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের এই দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পূরণ করবেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই আন্দোলনে একাত্মতা পোষন করছে।’

জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছিল। তবে এই মজুরিতে তারা সন্তুষ্ট ছিলেন না। গত কয়েক বছর ধরে শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে মজুরি ন্যূনতম ৩০০ টাকা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে সরকার ও শ্রমিক সংগঠনের একাধিক সভাও হয়েছিল।

সর্বশেষ গত জুনে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু মালিকপক্ষ ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়। যে কারণে শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আরও এক মাস পার হলেও মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর প্রতিবাদে ৯-১২ আগস্ট টানা চার দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ধর্মঘট পালন করা হয়। তারপরও মালিকপক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কথা না বলায় দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সব চা বাগানে শুরু হয় শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি। এই কয়দিন ধরে চা-শ্রমিকরা বাগানে বাগানে মিছিল-মিটিং-সমাবেশ ছাড়াও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

শনিবার (২০ আগস্ট) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে চা-শ্রমিক ও সরকারের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১৪৫ টাকা। এরপর চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার কথা জানান চা-শ্রমিক নেতারা। কিন্তু সাধারণ চা-শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন।

সর্বশেষ রোববার (২১ আগস্ট) রাতে অনেকটা গোপনে চা-শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। এসময় চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই বৈঠক। এরপর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে ৯ দিনের আন্দোলন শেষে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং ১২০ টাকা মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো— প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ২২ আগস্ট থেকে কাজে যোগদান করবেন। আপাতত চলমান মজুরি অর্থাৎ ১২০ টাকা হারেই শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স পরবর্তীতে মজুরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে বলে শ্রমিক নেতারা জানান।

তাছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হওয়ার জন্য চা-শ্রমিক নেতারা আবেদন করবেন, যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপস্থাপিত হবে। চা-শ্রমিকদের অন্যান্য দাবিগুলো লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করবেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সময় বিবেচনা জানাসহ তার কার্যালয়ে পাঠাবেন। বাগান মালিকরা বাগানের প্রচলিত প্রথা/দর মোতাবেক ধর্মঘটকালীন মজুরি শ্রমিকদের পরিশোধ করবেন।

তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়েই এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চা শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *