সোনালি আঁশের বাম্পার ফলন, দামে কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম ও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। প্রথম দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে পাট জাগ দিতে সমস্যা হলেও মৌসুমের শেষ দিকে এসে বৃষ্টি হওয়ায় খুশি চাষিরা।

সরেজমিনে দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর, সদর, বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর জেলা দিনাজপুর। এ বছর বৈরী আবহাওয়া হওয়া সত্ত্বেও পাটের আবাদ কৃষকদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। পাট নিয়ে কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ খেত থেকে পাট কাটছেন, কেউবা পাট পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ আঁশ ছাড়িয়ে পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে বাজারে নিচ্ছেন বিক্রির জন্য। গতবছরের তুলনায় এবার পাটের বাজার দাম বেশি। পাট যে সোনালী আঁশ বাজার মূল্যেই তার প্রমাণ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বর্ষাকালে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও আবাদী এলাকা বন্যামুক্ত থাকায় এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট চাষের জন্য উপকার হয়েছে। এছাড়া আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফলে জেলায় ক্রমান্বয়ে পাটের উৎপাদন বাড়ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর পাট আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। এ বছর পাটের উৎপাদনও বেড়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে পাটের গড় উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ১১ মেট্রিক টন। আর এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১২ মেট্রিক টন।

জেলা পাট অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার বিভিন্ন বাজারে পাট প্রকারভেদে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে পাটের বাজার দর ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা।

জেলার খানসামা উপজেলার পাটচাষি মতিয়ার রহমান বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। সব মিলে উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকার মতো। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় দেড় বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার পাট বিক্রি করব।

একই এলাকার পাটচাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, পাট মূলত বৃষ্টিনির্ভর ফসল। মৌসুমের শুরুতে এবার বৃষ্টি হয়েছে। তখন পাটগাছের বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। পরে সময়মতো বৃষ্টি ও রোদ ভালো হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাট কাটার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এতে পরিবহন ব্যয়ও সাশ্রয় হয়েছে।

আবার উপজেলার আইয়ুব আলী বলেন, জীবনদ্দশায় আমি পাটের ফলন আর এমন বাজার দর দেখিনি। পাটের এ বাজার থাকলে আগামী বছর চাষিরা আগ্রহের সাথে অধিক হারে পাট চাষ করবে।

চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর গ্রামের পাটচাষি আশরাফ আলী বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো আবার পাটকাঠি ভালো দামে এবার বিক্রি হচ্ছে। তাই কৃষকরা এবার পাট চাষে লাভবান হবেন।

একই গ্রামের পাটচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, গতবারের তুলনায় পাট ভালো দামে বিক্রি করেছি। ভালো মানের পাট বাজারে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গতবারের তুলনায় ৪০০- ৫০০ টাকা বেশি।

পাট কাটতে আসা নারী শ্রমিক শ্যামলী রানী বলেন, পাটের ফলন ও বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় পাটচাষিরা আমাদের সঠিক মজুরি দিচ্ছেন। এতে পাটচাষিরাও খুশি আমরাও খুশি।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান জানান, এ বছরের আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার এবং পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ পাট চাষে কৃষকদের সব সময় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনাজপুরে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *