পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ১৭৫ মিটার সেতুর কাজ,খোঁজ নেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কাঁকড়া নদীতে ১৭৫ মিটার একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় চিরিরবন্দর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের যাতায়াতকারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। তবে শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

জানা যায়, ভিয়াইল ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে কাঁকড়া নদী। নদীর পশ্চিম পাশে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, ইউপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও নদীর পূর্ব-উত্তরে চিররবন্দর উপজেলা শহর। নদীর পূর্ব পাশে ইউপি সেবা নিতে গেলে মানুষকে প্রায় সাত থেকে আট কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় বা নৌকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নদীর পশ্চিম পাশের মানুষ উপজেলা শহর কিংবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। ২০২২ সাল শেষ হতে চললেও কাজ শেষ হয়নি সেতুর। সেতু নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, চিরিরবন্দর উপজেলা সদরে যাতায়াতে এই নদীই প্রধান সমস্যা। এছাড়া ভিয়াইল ও পুন্ট্রি ইউনিয়নের মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে, কষিপণ্য পরিবহনে এই নদীতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে বছরের প্রায় ৮ মাস পানি থাকে। এ কারণে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হয়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার হাজার মানুষকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জবেদ আলী বলেন, সেতু নির্মাণে যেমন ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তদারকির চরম অভাবের কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় চলে গেলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

ওই এলাকার বাসিন্দা বিনু চন্দ্র জানায়, নদী ওপারে ইউনিয়ন পরিষদ হওয়ায় যে কোন কাজে নদী পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতেই হয়। যেকোন গুরুত্বপূর্ন কাজে বা সমাবেশে গ্রামের সবাই এক সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে যায় । কিন্তু মাত্র একটি নৌকা ঘাটে থাকায় সময় মত সবাই এক সাথে পরিষদে যেতে পারে না।

ভিয়াইল গ্রামের রুবেল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেছে এত দেরি হওয়ায় আমরা চিন্তিত, কবে এর কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না।

হিরা নামে অপর এক ব্যক্তি আরো বলেন, ভিয়াইল ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা কৃষিকাজ, মৎস্য কাজ করেন। কাঁকড়া নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া যাতায়াতের বিকল্প যে পথটি রয়েছে, সেটি প্রায় ৭ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। তাছাড়া এই সেতুটি হচ্ছে দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল। তাই হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এই সেতুটি দ্রুত মানুষের চলাচলের উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক হাসান জানান, ঠিকদারের বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটির কাজ বন্ধ রাখায় সেতু নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তাদের অনেকবার চিঠি দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বর্ষামৌসুমের পরেই তারা পূনরায় কোন সারা না দিলে বাতিল আবেদন চেয়ে বাকি কাজ শুরু করা হবে। তবে সেতুটির পিলারসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *