দৌলতখানের নেয়ামতপুরে আওলাদ চেয়ারম্যানের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে মানববন্ধন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নেয়ামতপুরে ভবানীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে সম্মিলিত চরবাসী। রবিবার বিকেলে নেয়ামতপুর চরের মেঘনা নদীর পারে এ মনববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধনে নির্যাতিত কয়েকশত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় চরবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আমাদের চরের সীমানা নির্ধারণ করে হয়, কিন্তু বর্তমানে সে সীমানা নির্ধারণ মানছে না আওলাদ চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। আওলাদ চেয়ারম্যান ও তার পালিত ক্যাডার বাহিনী আমাদের সীমানায় অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে সরকারি সীমানার ফিলার উঠিয়ে ফেলে। অন্যদিকে তারা জোড় পূর্বক আমাদের ফলানো ফসল, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা চরবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী আমাদের উপর নির্যাতন চালায়। এলাকা ঘুড়ে আরো জানাগেছে, নেয়ামতপুর চর দখল নিয়ে নেয়ামতপুরবাসী এবং ভবানীপুরবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের রায় এবং জেলা প্রসাশনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কিছুদিন পূর্বে নেয়ামতপুর চরে ভবানীপুর চরের লোকজন হানা দেয়। এসময় নেয়ামতপুর চরের মহিলাদেরকে অপদস্থ করা হয়েছে এবং গরু ও ভেড়া লুট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চরের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সেদিন ভবানীপুরের আওলাদ ও নবু গ্রুপের লোকজন নেয়ামতপুর চরে এসে মানুষদের বাড়িঘরে হানা দেয়। তাদের ভয়ে পুরুষরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। এসময় সন্ত্রসীরা নারী শিশুদের মারধর করে। বাঁধা দিতে এসে বেশ কয়েকজন নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসীরা এসময় বিল্লাল নামে একজনকে ধরে নিয়ে যায়।

নেয়ামতপুর চরের মালিক পক্ষের প্রধান আলহাজ্ব ফেরদাউস আহমেদ জানান, নেয়ামতপুর এবং ভবানীপুর চরের মধ্যে দীর্ঘদিন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ ছিল। গত বছর হাইকোর্ট থেকে চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়। ওই রায় মোতাবেক গত ২৪ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজন গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে পিলার গাড়া হয়। হঠাৎ করে ভবানীপুরের সন্ত্রাসীরা চরে এসে হানা দিয়েছে। তারা আদালতের রায় অমান্য করে জবর দখলের চেষ্টা করে। এসময় হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। আলহাজ্ব ফেরদাউস অভিযোগ করেন সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় চরবাসীর ১০/১২ টি গরু এবং ৫টি ভেড়া নিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.