ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের ধাওয়ায় নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আরিফুল ইসলাম আরিফ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
ফুলবাড়িতে,ধর্মপুর সিমান্ত দিয়ে গভীর রাতে বাবা,মা দুই সন্তান সহ দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় বিএসএফ ধাওয়ায় নদীতে ডুবে বাংলাদেশী দুইটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।বাবা,মা নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও সন্ধান মেলেনি দুই শিশুর।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সিমান্ত ৯৪৩ নম্বর সিমানা পিলারের পাশে নীল কোমল নদীতে এ ঘটনাটি ঘটে। জানাযায়, নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম সূখাতি গ্রামের মোঃ রহিচ উদ্দিন (৪০) ও তার স্ত্রী সামিনা বেগম (৩৪) জীবিকার তাগিদে ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের সুলতানপুর নামক স্থানে,চুক্তিতে ইট-ভাটার কাজ করার জন্য যান এক সময় চুক্তিমত কাজ শেষ করে, স্ত্রী ও দুই সন্তান কে নিয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কুচবিহার জেলার,দিনহাটা থানার সেউটি সীমান্তে উপস্থিত হন রহিচ উদ্দিন। এসময় ভারতীয় পাচারকারী দালাল চক্রের সাথে চুক্তিবদ্ধে আবদ্ধ হন।

এ ব্যাপারে রহিচ উদ্দিন জানান, গত-শুক্রবার ০১(জুলাই)ভারতীয় পাচারকারী দালাল চক্রের মাধ্যমে ৩০হাজার টাকা চুক্তির বিনিময়ে গভীর রাতে দালালরা কাঁটাতারের বেড়া কেটে নীল কোমল নদীর ধারে নোম্যান্সল্যান্ডে এনে দাড় করিয়ে রেখে বলে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে চলে যাও।এক পর্যায়ে সারাশব্দ টেরপেলে ভারতের সেউটি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ টর্চলাইট জ্বালিয়ে ধাওয়া করে, অবস্থায় বেগতিক দেখে রহিচ উদ্দিন ব্যাগ বোঁচকা নিয়ে ও স্ত্রী সামিনা বেগম দুই সন্তান কে নিয়ে জীবন বাঁচাতে নদী সাঁতরে থাকলে এক পর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতের বেগে দুই সন্তানের হাতের মুঠো খুলে ডুবে যায় দুই শিশু, পারভীন (৮)আর শাকিবুর (৪) কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বুকফাটা চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে একথা বলতে থাকে।

ঘটনার তিন দিন পরে ৩(জুলাই) রবিবার সকাল ৮টার দিকে ঐ সিমান্ত এলাকার লোকজন লীল কোমল নদীতে ডুবে যাওয়া শিশু দুটির লাশ ভারতের অভ্যন্তরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। লাশ ভারতের অভ্যন্তরে থাকায় পরে দুপুরে দিকে ভারতের দিনহাটা থানা পুলিশ এসে নদী থেকে লাশ উত্তোলন করে নিয়ে যায়। একসূত্রে জানাযায় ভারতীয় পুলিশ আগামী সাতদিনের মধ্যে যদি লাশের ওয়ারিশ যথাযোগ্য প্রমাণ দিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করে তাহলে আমরা তাদের নিকট লাশ ফেরত দিব।

এব্যাপারে লালমনিরহাট১৫ বিজিপির কাশিপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কবির হোসেন জনান , পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বাংলাদেশী নাগরিকত্বের কোন প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় শিশু দুটির মরদেহ বিএসএফ নীল কোমল নদী থেকে উদ্ধার করেছে। এনিয়ে দু’দেশের কোম্পানি পর্যায়ে এক সৌজন্য মূলক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.