বোরহানউদ্দীনে মোবাইল ফোন হারানোর অপবাদে শিশুকে অমানবিক নির্যাতন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের বড় পাতা গ্রামে ৭ বছর বয়সী একটি শিশু অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির নাম তানিশা বেগম। নির্যাতনকারী শিশুটির দাদি। তার নাম সোনিয়া বেগম (৪৫)। এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নির্যাতিত শিশুটি ওই গ্রামের মো. হারুন হাওলাদারের প্রথম স্ত্রীর সন্তান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৬ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে হারুন হাওলাদারের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর হারুন চট্টগ্রামের মনোয়ারা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে হারুনের বিবাহ বিচ্ছেদের পর তানিশা তার নানা-নানির বাড়িতে বসবাস করত। দুই মাস আগে তানিশাকে তার দাদা-দাদি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। কয়েক মাস পর দাদি সোনিয়া বেগম প্রায়ই সামান্য বিষয় নিয়ে তানিশাকে অমানবিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে শিশুটির বাবা হারুন ও সৎ মা মনোয়ারা বেগম প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন দাদি সোনিয়া বেগম। সর্বশেষ ২৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের মোবাইল ফোন হারানোর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দাদি তানিশাকে অমানবিক নির্যাতন করেন। স্থানীয় এক কিশোর মোবাইল ফোনে নির্যাতনের একটি ভিডিও করেন। পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

৩১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দাদি সোনিয়া বেগম শিশুটির চুলের মুঠি ধরিয়ে তাকে পাশবিক নির্যাতন করছেন। তিনি শিশুটির চুলের মুঠি ধরে একটি পুকুর পাড়ের কাঁচা মাটির রাস্তায় শিশুটিকে চেঁচিয়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাটির ওপর তাকে আছাড় দিচ্ছে্ (ওপর থেকে মাটির উপর আঘাত করা)। সেসময় শিশুটি দাদির হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। শিশুটি ‘মা মা’ বলে কান্নাকাটি করে। শিশুকে রাস্তা থেকে চেঁচিয়ে বাড়িতে নিয়ে লোহার প্লাস দিয়ে তার ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল টেনে উঠিয়ে ফেলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। এখনও সে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় বুধবার দাদিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.