অসুস্থ শিক্ষার্থীকে ভুল চিকিৎসা দিলেন পবিপ্রবির হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক

আবু হাসনাত তুহিন, পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
গত শনিবার (১৮ জুন) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত অসুস্থ হলে তাকে হেলথকেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কয়েকটি এন্টিবায়োটিক লিখিত প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেয়। ভুল চিকিৎসার জন্য তার অবস্থা আরো খারাপ হলে, বরিশালে শেরে বাংলা মেডিকেল নিলে তার এপেন্ডিসাইটের সমস্যা ধরা পড়ে। দ্রুত অপারেশন না করলে জীবনের ঝুঁকি ছিল। এমন ঘটনায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও চিকিৎসক কর্তৃক শুধু এন্টিবায়োটিক লিখিত প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া, সময় মত চিকিৎসা না পাওয়া, সেবাকেন্দ্র থেকে কোন ঔষধ না দেওয়া, ভুল চিকিৎসা দেওয়া, অফিস চলাকালীন সময়ে চিকিৎসকের বাইরের চেম্বারে বসা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেন শিক্ষার্থীরা। এসব অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) এর হেলথকেয়ার সেন্টারে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২০ জুন) দুপুর ১২ টায় শিক্ষার্থীরা হেলথকেয়ার সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন ও হেলথকেয়ার সেন্টারের প্রধান গেট তাল বদ্ধ রাখেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য ৫ দফা দাবি করেন।

অভিযোগ জানিয়ে ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অনিক বলেন, “হেলথকেয়ারে কোন টেষ্ট করতে চায় না, কোন ঔষধ দেয় না, কোন টেষ্টের প্রয়োজন হলেই শুনি এই টেষ্টের যন্ত্র নষ্ট বাইরে থেকে টেষ্ট কর।”

আরেক শিক্ষার্থী জানান, গতকালকে ঘুমের মধ্যে আমার কানের মধ্যে একটা পোকা চলে যায়। এই জন্যে প্রচুর ব্যথা আর অস্বস্তি লাগায় আমি হেলথ কেয়ারের ডাক্তারকে ফোন দেই যে পোকাটা কোনোভাবে বের হচ্ছে না, এখন আমি কি করবো? উনি বলেন কানের মধ্যে বেশি করে পানি ঢেলে দেও, পোকা বের হয়ে আসবে। যেখানে গোসলের সময় কানে পানি ঢুকলেও মানুষের কানে সমস্যা হয় সেখানে তারা উলটে আমাকে আরো কানের মধ্যে বেশি করে পানি দিতে বলে!

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাঈম খান বলেন, হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে হেলথকেয়ার এসে ফোন দিয়ে গেট খুলাতে হয়। ডাক্তার আসে তার কয়েক ঘন্টা পড়।

বিএ অনুষদের শিক্ষার্থী তানজিদ হাসান বলেন, হেলথকেয়ারে গেলে পরিক্ষা ছাড়াই ইনজেকশন দেয়, আর একটু ঠান্ডা লাগলেও এন্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হচ্ছে- রাহাতের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ দিতে হবে, চিকিৎসক কে দ্রুত শাস্তি দিতে হবে,২৪ ঘন্টা ডাক্তার ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধের যোগান, প্রয়োজনীয় টেস্টের ব্যবস্থা, রোগ নির্ণয় না করে এন্টিবায়োটিক ও ইনজেকশন দেওয়া বন্ধ করা , সপ্তাহে একদিন হলেও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিত। উক্ত দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দলোনে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *