পদ্মা সেতু খুলে দিলে সাগর কন্যায় যেতে কক্সবাজারের চেয়ে কম সময় লাগবে

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
২৫শে জুন শুভ উদ্বোধন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। কক্সবাজারের চাইতে কম সময় পৌঁছানো যাবে কুয়াকাটায়। ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটায় চলাচল এতোদিন ছিলো বেশ চ্যালেঞ্জিং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো ফেরিঘাটে। তবে, সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে বলতে গেলে এক দৌড়ে কুয়াকাটায়। বিভিন্ন স্থানে বসেছে সেতু। অবসান হয়েছে ফেরি যুগের। এখন শুধুই অপেক্ষা পদ্মাসেতু উদ্বোধনের। পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে আনন্দ বিরাজ করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে ।

পর্যটকরা বলছেন, দেশের এ মেগা প্রকল্প চালু হলে পুরোপুরি মসৃণ হবে পথ। কক্সবাজারের চেয়ে কম সময়ে আসা যাওয়া করা যাবে ঢাকা-কুয়াকাটায়। উন্নত হয়েছে সড়ক পথ। বর্ণনা সূত্রে, ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৪৪৫ কিলোমিটার।আর ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় ২৯৪ কিলোমিটার। স্বপ্নের পদ্মাসেতু খুলে দিলে সাগরকন্যায় যেতে কক্সবাজারের চেয়ে কম সময় লাগবে।

২৫শে জুন পদ্মা সেতু চালু হবে, এমন ঘোষণা শুনে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্প নিয়ে জেগেছে নতুন আশা। ভালো কিছুর প্রত্যাশায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও।

কুয়াকাটা হানিফ এন্টারপ্রাইজ কাউন্টার পরিচালক মনির শরীফ বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে সড়কে বসে থাকতে হবে না। প্রতিদিন একাধিক ট্রিপ দেয়ার সুযোগ হবে বলে মনে করছেন তারা। এবং সড়কপথে ফেরির কথা ভেবে যাত্রীরা কম চলাচল করত, আমরা এখনো আশাবাদী ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ৯০শতাংশ যাত্রী সড়কপথে চলাচল করবে বলে আশা করছি। কারণ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকা টু কুয়াকাটা এর ভিতর কোন ফেরি থাকছে না।

হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরাও স্বপ্ন দেখেছেন,।তারা বিশ্বাস করছেন, বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা। সেটা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের খাবার ব্যবস্থাসহ নিচ্ছেন নানা প্রস্তুতি।
হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম হাওলাদার জানান, পর্যটন কেন্দ্রের নতুন সম্ভাবনা আমাদের পদ্মা সেতু। এই সেতুর দরজা খোলার সাথে সাথে খুলে যাবে পর্যটন শিল্প কুয়াকাটার কপাল। সেই দিকে নজর দিচ্ছি আমরা হোটেল মালিকরা।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো: আনোয়ার হাওলাদার বলেন,এই সেতুটি আমাদের দক্ষিণ অঞ্চলের বিশেষ করে কুয়াকাটা জন্য বড় একটি উপহার দিয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করছেন তারই কন্যা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণ পর্যটকের আগমন ঘটবে আমাদের কুয়াকাটায়। আমরা চেস্টা করছি পৌরসভাকে পরিকল্পিত ভাবে ঢেলে সাজাতে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান জানালেন, পদ্মাসেতু চালু হলে পাল্টাবে আর্থসামাজিক অবস্থার। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। আধুনিক হয়ে উঠবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

১৩ টি ফেরি আর দের দিন সময়ের বোঝা সরিয়ে, ফেরিবিহীন ৫ ঘন্টায় কুয়াকাটায় কখন পৌছাবে পর্যটকরা। সেই দিনটির জন্য অপেক্ষায় লাখো পর্যটকরা,একই প্রত্যাশা কুয়াকাটার সাধারণ মানুষের। অপেক্ষা করছেন পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.