ভোলায় অস্তিত্বহীন ইউপি নির্বাচন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলার দৌলতখান উপজেলার অস্তিত্বহীন হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তোড়জোড় চলছে। অনেকদিন আগে নদী ভাঙনে ইউনিয়নটি বিলীন হয়ে গেলেও কাগজে রয়ে গেছে। এ কারণে কোনো স্থলভাগ না থাকার পরও নির্বাচন হচ্ছে। ১৫ জুন পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, দেড় বছর আগে মেঘনা নদীতে হাজিপুর ইউনিয়ন সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এটি এখন প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ইউনিয়নটির মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৪০ জন। এখন সেখানে একজন মানুষও বসবাস করেন না। সবাই অন্য এলাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানকার সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাওলাদার জানান, ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে জরিপ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিবেদন পাচ্ছি না। কাগজে ইউনিয়নটির অস্তিত্ব রয়ে গেছে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো হাত নেই। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ সফিকুল হক জানান, ইউনিয়নটির বাস্তব অবস্থা না জেনে মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও বলেন, সেখানে ভোট নেওয়ার কোনো পরিবেশ ও পরিস্থিতি নেই। তাই পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের একটি স্কুলে ৯টি ওয়ার্ডের ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান টিপু বেং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবি আবদুল্লাহ কিরণ। মেম্বার পদে প্রার্থী ২৩ জন। সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী ১৩ জন।

অভিযোগ- দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের বাসিন্দা হামিদুর রহমান টিপু গতবার ভোটার স্থানান্তর করে হাজিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হন বেং চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়ী হন। এরপর চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন। ৩০ জানুয়ারির পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিন মাস আগে তিনি আবার ভোটার হাজিপুরে স্থানান্তর করেন। ওই ইউনিয়নে ভোটার না থাকায় পৌর ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দলীয় কিছু লোক ভোটার হাজিপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান টিপু জানান, তার বাড়ি খলিফা এলাকায়। নদী ভাঙনে অনেক পরিবার আশপাশে বাড়ি করেছেন। জেলে সুবিধাসহ তারা নানা সুবিধা পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.