দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার কিন্তু দামে হতাশ ক্রেতারা

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে এসেছে চায়না থ্রি জাতের লিচু। এখন চলছে শেষ সময়ের বেচাকেনা। চায়না থ্রি জাতের লিচু দেখতে অনেকটা আপেল আকৃতির। গায়ে কাঁঠালের মতো আবরণ, তবে মসৃণ। বিচি একেবারেই ছোট। লিচুটি খেতেও বেশ রসাল।

শেষ সময়ে দিনাজপুরে লিচুর বাজার জমে উঠলেও দামে হতাশ ক্রেতারা। এদিকে দাম বেশি পাওয়ায় খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হওয়ায় দাম গত বছরের চেয়ে বেশি। এতে আগের বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তাঁরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে লিচুবাগান রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে বোম্বাই লিচু ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে, মাদ্রাজি ১ হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না থ্রি ৭০২ দশমিক ৫ হেক্টর, বেদানা ২৯৪ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ২১ হেক্টর এবং মোজাফফরপুরী লিচু ১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আর বসতবাড়ির উঠানসহ বাগানগুলোতে লিচুগাছ রয়েছে সাত লক্ষাধিক।

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে অস্থায়ী লিচুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে চলছে পাইকারদের হাঁকডাক। ভ্যান ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আড়তে লিচু নিয়ে আসছেন চাষিরা।সেখান থেকে কিনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

ছাড়াও বাহাদুর বাজার, হাসপাতাল মোড়, কালিতলা বাজারে খুচরায় লিচু বিক্রি হচ্ছে। নিজের খাওয়ার জন্য কিনছেন কেউ কেউ। কেউ ৫০০ থেকে ১ হাজার পিস পর্যন্ত কিনে বাক্সে ভরে ঢাকাসহ নানা জায়গায় স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আর বেশি হলে ৮ থেকে ১০ দিন নিচু পাওয়া যাবে। ধীরে ধীরে একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে এ জেলার লিচুর সারা দেশে চাহিদা থাকায় বাজার সরগরম। পাইকারি বাজারে প্রতি এক হাজার বোম্বাই লিচু বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। আর চায়না থ্রি ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। লিচুর আকার ও কোয়ালিটিবিভেদে প্রতি হাজার বেদানা লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া হাঁড়িয়া লিচু ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লিচুচাষীরা বলছেন, চায়না থ্রি লিচু প্রায় শেষের দিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসবে মোজাফফরি লিচু।

ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, এবার লিচুর ফলন কম। কয়েক বছর রমজান আর করোনার কারণে লিচুর বাজার খারাপ ছিল। এবার একদিকে ফলন কম, আরেক দিকে সারা দেশে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেশি।

বাজারে লিচু ক্রেতা রবিউল হাচান বলেন, আমি যে কোন মৌসুমি ফল বাচ্চাদের জন্য কিনি। এবার লিচু কিনতে এসে আবাক হয়ে গেলাম। আমার জীবনের বয়সে লিচুর এত দাম কখনো দেখিনি।

বিরল উপজেলার ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের লিচুচাষী মোঃ রেজওয়ান আলী বলেন, এবারে দাম ভালো পাওয়া গেল। কিন্তু ফলন কম হয়েছে। শুরুতে মুকুল বেশি ছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মুকুল ঝরে যায়। আর চায়না থ্রি তো সোনার হরিণ হয়েছে। যাঁর গাছে আটকেছে, তিনি ভালো টাকা পাবেন।

দিনাজপুর আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাজিউর রহমান বলেন, এবার লিচুর চাহিদা বেশি। কয়েক দিন আগে আমদানি কিছুটা কম ছিল। হাঁড়িয়া বেদানা ও চায়না থ্রি বাজারে আসায় আমদানি কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে লিচু নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারের এই রমরমা অবস্থা সর্বোচ্চ আর দুই সপ্তাহ চলবে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. খালেদুর রহমান বলেন, দেশে কম-বেশি লিচু উৎপাদন হলেও দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বেশি থাকে। এবারে প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৩ মেট্রিক টন লিচুর উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.