দিনাজপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান কৃষকরা

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলনে লাভবান হয়েছেন ভুট্টা চাষিরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও জমি চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় ভুট্টার বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা।

জানা যায়, পোল্ট্রি শিল্প, হাঁস-মুরগীর খামার, গরুর খামার ও মৎস্য খামারে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক ভুট্টার চাষে আগ্রহী হয়েছেন। দিনাজপুরসহ রংপুর অঞ্চলে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।

কাহারোল,বীরগঞ্জ,চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশালাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ভুট্টার খেত। কৃষকরা কিছু কিছু খেতে গাছের আগা ও পাতা ছেঁটে ফেলেছেন, যেন ফলের গায়ে রোদের তাপ ভালোকরে লাগতে পারে। অধিকাংশ খেতে গাছ থেকে ভুট্টার মোচা তোলা ও সংগ্রহকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।

কৃষকেরা বলছেন, এবার শীতের প্রকোপ বেশি না থাকায় সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত এবং রৌদ্রের প্রখরতা না থাকায় ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। মোচাগুলো বড় হয়েছে। ভুট্টার দানা বড় ও পরিপক্ব হওয়ায় বেড়েছে ওজনও। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ মণ। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বাজারে এখন দামও ভালো ভুট্টার। ভুট্টার কাঁচাতে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর শুকনা ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ভুট্টার ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় জেলায় দিনদিন বাড়ছে ভুট্টার আবাদ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে জেলায় ৪৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার ফলন হয় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন। পরের বছর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভুট্টার আবাদ। জেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয় বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল চিরিরবন্দর ও সদর উপজেলায়। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন।

কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরগ্রামের ভুট্টা চাষি সালেমুদ্দিন জানান, তিনি এবার ২ একর ভুট্টা চাষ করেছেন। ১ একর জমিতে ১৪০ মণ ভুট্টা ফলন পেয়েছেন তিনি। দাম বেশি পেয়ে লাভ এবার ভালোই হয়েছে ভুট্টা চাষ করে।

বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি এলাকার কৃষক দিলিপ কুমরা বলেন, ভুট্টা চাষে লাভ বেশি টেনশন কম থাকে আর ধান লাগলে যত বিপদ ধান কাটা শ্রমিকের সংকট মজুরি বেশি কিটনাষক সহ সার পানির দাম বেশি ধানের অধিক পরিচর্জা করতে হয় ভুট্টায় তেমন কোন পরিচর্জা দরকার হয়না ধানের তুলনায় ভুট্টায় সার পানি কিটনাষকের তেমন প্রয়োজন হয় না অল্প খরচে ভুট্রায় লাভবান বেশি হয় কৃষক তাই দিনদিনে আগ্রহ বাড়ছে ভু্ট্টা চাষে।

চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধানরে চেয়ে ভুট্টায় অনেক বেশি লাভ তাই ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। আমি আগে দুই থেকে তিন বিঘা জমিতে ভুট্রা চাষ করেছি। লাভ ভালো হওয়ায় এবার ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এখন ভুট্টা তুলছি বাজারে ধানের থেকে ভুট্টার দাম ভালো। ধানে খরচ বেশি ধান বিক্রিকরে খরচের টাকাই তুলায় যায়না। ভুট্টায় খরচ কম লাভ বেশি তাই আগের থেকে কৃষক বেশি করে ভুট্টা চাষ করছে।

খানসামা উপজেলার ভেড়ভিড়ি গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, এবার চার বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ভুট্টা চাষ করেছি । এক বিঘা জমিতে চাষ ও মজুরি বাবদ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ভুট্টা পেয়েছি ৭৫ মণ। কাঁচাতে বিক্রি করেছি প্রতি মণ ৮৫০ টাকা করে। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৪০ হাজার টাকার মত।

দিনাজপুর শিল্প ও বণিক সমিতির পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভুট্টার আবাদ। গত চার বছরে জেলা শহরে গড়ে ওঠা পাঁচটি ফিড মিলে চাহিদা বেড়েছে ভুট্টার। ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা ভুট্টার আবাদে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, সাধারণত নদীর ধারে পলিমিশ্রিত ঢালু জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। দীর্ঘদিন যে জমিগুলো অনাবাদি থাকত, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে সেসব জমিকেও চাষাবাদের আওতায় আনছেন তাঁরা। তা ছাড়া ভুট্টার আবাদ বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ২০ হাজার কৃষককে ২ কেজি করে ভুট্টার বীজ ও ২০ কেজি সার সরবরাহ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.