সরকারি পিসি কলেজে আবাসিক হলের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

শেখ সোহেল ,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাট সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) কলেজের কামাক্ষ্যচরণ হলের শিক্ষার্থীরা হলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার দুপুরে কলেজের বঙ্গবন্ধু ম্যূরালের পাদদেশে হলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে হলের বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা, ডাইনিং এ পর্যাপ্ত চেয়ার টেবিল নেই, নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সংস্কার কাজ বন্ধ, বাবুর্চি চলে যাওয়ায় হলে রান্না বন্ধ, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ইত্যাদি। মানববন্ধনে বক্তারা অতিদ্রুত এসব সমস্যা নিরসন করে হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানান।

তবে আবাসিক শিক্ষার্থীরা বাৎসরিক বরাদ্দের টাকা ঠিকমত না দেওয়াতেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন হল তত্ত্বাবধায়ক।

এদিকে আবাসিক কামাক্ষ্যচরণ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একত্না প্রকাশ করেছে পিসি কলেজ ছাত্র সংসদ।

স্নাতক সন্মান ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী অভিষেক রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হলে একাধিক সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ এর সমস্যার জন্য পড়াশোনায়ও ক্ষতি হচ্ছে আবার বাবুর্চি চলে যাওয়ায় এখন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

প্লাবন নামের অপর এক শিক্ষার্থী বলেন হল তত্ত্বাবধায়ক স্যারের মাধ্যমে বার বার অধ্যক্ষ স্যারের কাছে আবেদন করলেও আমাদের হলের সব সুযোগ সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

হলের অপর এক শিক্ষার্থী সবুজ সানা বলেন, হলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। তারপরেও নিজেদের সামর্থ্যানুযায়ী কিছু কিছু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যয়বহুল সংস্কার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক বার আবেদন করেও প্রতিকার না পাওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

এ বিষয়ে হল তত্ত্বাবধায়ক ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার সরদার বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষার্থীরা টাকা না দেওয়ার ফলে আমরা চাইলেও সংস্কার কাজ করতে পারছি না। কিছু শিক্ষার্থী মাত্র ৬ মাসের টাকা দিয়েছে। টাকা চাইলে তারা বিভিন্ন টাল-বাহানা করে। তারপরেও আমরা সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি।

সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আসাদুল আলম খান বলেন, সারা বাংলাদেশের সব সরকারি কলেজের নিয়ম হচ্ছে হল চলবে শিক্ষার্থীদের টাকায়। শিক্ষার্থীরা টাকাও দিবেনা, আবার আন্দোলনও করবে, এইটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আবাসিক শিক্ষার্থীদের বার বার সুযোগ দেওয়া স্বত্তেও তারা টাকা না দিয়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছে।

অনেক বহিরাগতও হলে অবস্থান করছে। হলে অবস্থানরত যারা তাদের ছাত্র্বত্তের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারবে না এবং যারা হল ফি পরিশোধ করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.