সোনাইমুড়ীতে প্রেমের নামে প্রতারণা, যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টা, আটক-৪

খোরশেদ আলম শিকদার,সোনাইমুড়ী নোয়াখালী:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মোঃ সুমন (২২) নামের এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোর গ্যাং এর সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মামলা ও ভুক্তভোগীসূত্রে জানা যায়, বিগত ১ মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী জেলা লক্ষ্মীপুর এর রামগঞ্জ পৌরসভার খোনার বাড়ীর আমির হোসেনের মেয়ে আকলিমা আক্তার রুমির (২৩) মোবাইলে পরিচয় হয় বেগমগঞ্জ থানাধীন নরোত্তমপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে মোঃ সুমন (২২) এর সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেলে রুমি সুমনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে আসতে বলে। সুমন সরলমনে বিকেল ৫টার দিকে তার বন্ধু চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার শাহ জাহানের ছেলে মোঃ ইয়াছিনকে সঙ্গে নিয়ে ঐ স্থানে যায়। সেখানে দেখে প্রেমিকা রুমির সাথে বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউপির নরোত্তমপুর গ্রামের চিহ্নিত কিশোর গ্যাং এর সদস্য সেলিম মিয়ার ছেলে শান্ত (২০), একই গ্রামের এসহাক মিয়ার ছেলে রায়হান (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২০) ও প্রেমিকা আকলিমা আক্তার রুমি ঘটনাস্থলে পৌছার সাথে সাথেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমনকে আটক করে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সুমনকে মাটিতে ফেলে হাতুড়ি দিয়ে তার দুই পায়ে মারাÍক জখম করে। এসময় একটি ধারালো ছোরা দিয়ে সুমনকে জবাই করতে চাইলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে কিশোর গ্যাং এর ৩ সন্ত্রাসী ও প্রতারক প্রেমিকা রুমিকে আটক করলেও বাকী ৪ জন পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শান্ত, রায়হান, মেহেদী ও প্রতারক প্রেমিকা আকলিমা আক্তার রুমিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিক্টিমের বড় ভাই নুর হোসেন বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৮, তারিখঃ ০৪/০৬/২০২২ইং।

সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্য্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতরা কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য। এদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায়ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় মামলা হয়েছে। ধৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।