ভোলায় জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আত্মসাৎ ও তিন ছেলের চাকুরি’র তদন্ত শুরু

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ভোলায় নামের মিল থাকার সুযোগ নিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতি করে ৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধার মাসিক ভাতার প্রায় ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করার পাশপাশি তিন ছেলে ও এক নাতিকে কোটায় সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর খবরে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী। গঠন করা হয় তিন সদস্যেও কমিটি। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তদন্তকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছালামত কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজি তার এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যের সনদ জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। এ সময় ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দৌলতখান উপজেলার চরপাতা রাধাভল্লব এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে ব্যাংকার মোঃ রুহুল আমীনও উপস্থিত থেকে তার লালমুক্তি বার্তাসহ সকল সনদ দেখান। ব্যাংকার রুহুল আমিন ঘটনার তদন্ত ও প্রতারক রুহুল আমিনের শাস্তি দাবি করে, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ হেডকোয়াটার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের রুহুল আমিন কাজী স্বীকার করেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) পিতার নাম ট্যাম্পারিং করে তাতে ছালামত কাজীর পরিবর্তে রুস্তুম আলী বসিয়ে, মুক্তিযোদ্ধার ভাতার জন্য সমাজসেবা দফতরে জমা দেন। এমন কি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ব্যাংকার রুহুল আমিনের মুক্তিবার্তা নম্বর ৬০৪০৭০০৯০ ও সনদ ব্যবহার করেন। এই কাগজপত্র ব্যবহার করে ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত ভাতা গ্রহণ করে আসছিলেন। একই কাগজপত্র ব্যবহার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে (মুক্তিযোদ্ধা কোটায়) চাকরি হয় ছেলে আলী আকবরের। ২০১৮ সালে পুলিশ সুপারের অধীন কনস্টেবল পদে চাকুরি হয় মিজানুর রহমানের। মিজান বর্তমানে পিরোজপুর জেলার মটবাড়িয়া থানার তুষখালি ক্যাম্পে কর্মরত। অপর ছেলে আলী আজগর বর্তমানে ঢাকার পিবিআই’তে কর্মরত আছেন। জালিয়াতি করার অপরাধে ভেলুমিয়ার কাজী রুহুল আমিনকে পুলিশে সোর্পদ করার নির্দেশ দিলে তিনি ইউএনও’র কাছে হাতজোর করে ক্ষমা চান। তাকে ক্ষমা করে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভূক্ত করার দাবি জানান। তিনি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান।

প্রতারক রুহুল আমিন জানান, বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৬ সালে সাবেক ভোলা-২ আসনের এমপি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য চিঠি দেন। ওই সময় তিনিও আমন্ত্রন পত্র পান। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওই আমন্ত্রণ পত্রটিই তার এক মাত্র প্রমান পত্র। আর কোন সনদ তার কাছে নেই। তিনি ব্যাংকার মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনকে চিনেন না। মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে তার সাবেক বাড়ির এলাকার ঠিকানায় রুহুল আমিন, পিতা কাজি রুস্তুম আলী, গেজেট নং-৬৫৬ দেখে, এটি তার সনদ বলেই মনে করেন। পিতার নাম ভুল ছাপা হয়েছে বলে মনে করে নেন। এটি গত ১৫/২০ বছরে সংশোধনের উদ্যোগও নেন নি। তবে বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকায় তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্র প্রসাদ গ্রামে উল্লেখ থাকার পাশপাশি পিতার নাম ছালামত কাজী উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারক রুহুল আমিনকে বাড়ি চরপাতা এলাকায় ছিল, তা প্রমান করতে ও মুক্তিযুদ্ধে তার অংশ গ্রহণের প্রমান করতে বলা হয়। তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.