প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালতে স্বামী

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুরঃ
বুঝি আমার মালায় মায়ার বাঁধন নাই,আপন জনেরে আপন করিয়া বাঁধিতে পারি না তাই- স্বামীর মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে অন্যের হাত ধরে পালিয়ে য়াওয়া স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্বামী পাগলপ্রায়।স্ত্রীর জন্য কেনা নুপুরটি দেখিয়ে বলছে, আমাকে বলেছিল কাজ থেকে ফেরার সময় এক জোড়া নুপুর কিনে এনো, কিন্তু বাড়িতে ফিরে ওকে আমি আর পাইনি, পকেটিই রয়ে গেছে নুপুরটি,ওর কোন স্বাধই আমি অপূণ রাখিনি । ফরিদপুরে আদালত প্রাঙ্গনে ভালোবাসার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফিরে পেতে তার আহাজারীতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে সোমবার আদালতে মামলা করেছেন স্বামী।

দীর্ঘ ৮ বছরের সংসার। হঠাৎ একদিন কাজ শেষে ঘরে ফিরে দেখেন স্ত্রী নেই। নেই স্ত্রী কোন জামা কাপড়, গহনা। নেই ঘরে রক্ষিত ফোরম্যান স্বামীর কষ্টে অর্জিত জমানো টাকা। অনেক খোজাখুজি, পরে জানতে পারলেন অন্য একটি পুরুষের সাথে সম্পর্ক করে স্বামী রেখে পালিয়ে গেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর সালথা উপজেলার গট্টী ইউনিয়নের ঠ্যানঠেনিয়ার ভাবুকদিয়া গ্রামে। উপায়ন্ত না পেয়ে স্ত্রী কে ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছেন স্বামী মোঃ সুজন সিকদার।

মামলার আসামীরা হলেন আলামিন শেখ (৩১) ও সুজনের স্ত্রী লাভলী আক্তার সুমাইয়া।
ফরিদপুর জজ কোর্টের ৬ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সুজন। মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুন বাশার।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ভাবুকদিয়া গ্রামের মান্নান মোল্লার মেয়ে লাভলী আক্তার সুমাইয়ার (২৬) সাথে বিয়ে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর গ্রামের নয়ন সিকদারের পুত্র মোঃ সুজন সিকদারের (৩২) সাথে ৮ বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ে করে স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ী ভাবুকদিয়া গ্রামে বসবাস করতেন সুজন। সুজন মাঝখানে কিছুদিন কাতারে প্রবাস জীবন পার করে দেশে ফিরে এসে ফরিদপুর শহরে একটি রডের কোম্পানিতে ফোরম্যানের কাজ করে।

এবং ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের শোলাকুন্ডু গ্রামের মৃত কলিমদ্দিন শেখের পুত্র মোঃ আলামিন শেখ (৩১) আত্মীয় হওয়ার সুবাদে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতো। সে বিবাহিত। ৩ বছরের কন্যা সন্তান আছে। ২৬ মে বৃহস্পতিবার সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায় আলামিন।

সুজন সিকদার অত্যন্ত ভালবাসতেন তার স্ত্রী’কে। ৮ বছরের সংসারে এই দম্পত্তির কোন সন্তান না হলেও ভালবাসা দিয়ে ভরন পোষণে কোন কমতি রাখেনি স্ত্রীর।

সুজন সিকদার বলেন, আমার স্ত্রী কয়েক মাস ধরে মোবাইলে একটি ছেলের সাথে কথা বলতো গোপনে। গত রোজার মধ্যে আমি স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে হাতে নাতে ধরে শশুড়কে বলি। তখন আমার স্ত্রী আর কথা বললে না বলে সম্মত হন।

তিনি বলেন, গত ২৬ মে বৃহস্পতিবার আমি কাজে বের হলে আলামিন আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে প্ররোচনায় ফেলে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় আমার ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লক্ষ টাকা ও ২ ভরি গহনা সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আমি ও আমার শশুড় মান্নান মোল্লা ঐ ছেলে আলামিনের বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। আমরা ঐ ছেলের বাড়িতে যাওয়ার পূর্বে আমার স্ত্রী ও আলামিন বাড়ি থেকে সরে পরে।

আলামিনের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় আমার স্ত্রী সুমাইয়াকে নানা ভাবে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গেছে।

সুজন জানান, আমি ফরিদপুর জজ কোর্টের ৬ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

মেয়ের বাবা মান্নান মোল্লা বলেন, আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই। আলামিনের পরিবারকে বারবার অনুরোধ করেছি। তারা কোন প্রকার সহযোগিতা করছে না।

ছেলের বড় ভাই দুলাল শেখ বলেন, আমার সৎ ভাই আলামিনকে ৫ বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাকে বিয়ে দেই। তাদের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। তবে আলামিনের সেই স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা নারী ও শিশু কোর্টে চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে সে অন্যের স্ত্রী কে নিয়ে পালিয়েছে। আমি আমার ভাইকে অনুরোধ করেছি সুজনের স্ত্রী কে ফিরিয়ে দিয়ে আসতে।

মেয়েটির স্বামী মোঃ সুজন সিকদার বলেন, আমি আমার স্ত্রী কে অনেক ভালোবাসি। আমি আমার স্ত্রী কে ফিরে পতে চাই।

মামলার কৌশলী এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম স্টালিন বলেন, সুজন ও সুমাইয়া এখনও তারা স্বামী স্ত্রী। এদিকে আলামিনও বিবাহিত। তার বিরুদ্ধে নারী শিশু আদালতে তার স্ত্রীর দায়ের করা নির্যাতন মামলা চলমান রয়েছে। এমন অবস্থায় আলামিন সুজনের স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা দায়ের করে আলামীন ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.