শ্রমিক সংকট, মজুরি বেশি, বিপাকে পড়েছে কৃষক

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি। কারোও কারোও বোরো আবাদের কেটে রাখা পাকা ধান পানির নিচে।আবার কোথাও আধা পাকা ধান ন্যুইয়ে পড়েছে।কষ্টের ধন শেষ মুহূর্তে এভাবে ভেসে যাওয়ায় কৃষক এখন হতাশাগ্রস্ত। বলা যায়, কৃষকের পাকা ধানে মই দেয়ার অবস্থা হয়েছে।

সরজমিনেম দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় গিয়ে দেখা যায় এমন মর্মান্তিক দৃশ্য। বৃহস্পিতিবার ভোর রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে মাঠে দাড়িয়ে থাকা পাকা ধান মাটিতে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও জমিতে ধান কেটে বেঁধে রাখা ধানের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক মোঃ মোকলেছুর রহমান বলেন, আমার ৬ বিঘা জমির পাকা ধান একদিনের বৃষ্টিতে মাটিতে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। এবার ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আজকে ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কোন শ্রমিক কাজে আসে নি। এদিকে ফসলের অবস্থা খুবে খারাপ। এখন জমিতে পানি শুকালে ধান কাটতে হবে।পড়ে যাওয়া ধান কাটতে খরচ বেড়ে যাবে আবার সময় মত ধান কাটতে না পারলে জমিতে ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে ।

অমরপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, হঠাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর বাতাসে তলিয়ে যায় কাটা ধান। এজন্য ঘরে তুলতে পারিনি ধান। এসব ধান ক্ষেতেই ঝরে যাবে, যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

পুনট্রি গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, আমার ৫ বিঘা জমির পাকা ধান একদিনের বৃষ্টিতে মাটিতে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আজকে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কথা ছিল।কিন্তু পানির জন্য ধান মাটিতে পড়ে যাওয়া হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। জমিতে পানি শুকালে ধান কাটতে হবে শ্রমিক দিয়ে । তবে পড়ে যাওয়া ধান কাটতে খরচ বেড়ে যাবে আবার সময় মত ধান কাটতে না পারলে জমিতে ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে ।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছাঃ জোহরা সুলতানা বলেন, বৃষ্টিতে ধানের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তেমন একটা নেই। কিছু কিছু জায়গায় ধানের জমিতে পানি আটকে গেলেও আমরা কৃষকদের পানি বের করার জন্য বলছি।

এছাড়াও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। পানি লেগে থাকা ধান কৃষকেরা কেটে নিচ্ছেন। আশাকরছি তেমন ক্ষতি হবেনা।বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে উপজেলায় বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর। ধানের বর্তমান অবস্থা খুব ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.