মহিপুরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সামুদ্রিক সকল প্রকার মাছ ধরা নিষেধ

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
কুয়াকাটা, আলিপুর, মহিপুর মৎস্য বন্দর সহ, বাংলাদেশ সামুদ্রিক সকল প্রকার মাছ শিকার না করার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের প্রজনন বাড়াতে আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯মে) দুপরে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের প্রজনন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ২০২২২ পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এবং এসময়ে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

এমন সরকারি নির্দেশ পেয়ে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার সকল সরঞ্জাম তুলে কিনারায় চলে এসেছে হাজার হাজার জেলেরা। তবে সাংবাদিকদের দেখেই অভিযোগ দিতে শুরু করেছে তারা। মলিন মুখে ৬৫ দিনের অবরোধ মেনে নিয়েছে এই অঞ্চলের জেলেরা, তবে ৬৫ দিন কিভাবে সংসার চালাবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে শত শত জেলে পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুয়াকাটায় মোট জেলে ১৪০০জন, এরমধ্যে নিবন্ধনকৃত জেলে ১১৫০জন। আলিপুর আনুমানিক জেলে ১৯৫৬ জন, নিবন্ধন জেলে ১৭০০। মহিপুর আনুমানিক জেলে ২২০০ জন, নিবন্ধন জেলে ১৮০০। সরকার তহবিল থেকে যে বরাদ্দ জেলেদের জন্য দেওয়া হয় সেই বরাদ্দ নিবন্ধনকৃত জেলের বাহিরের অন্য কোন জেলেরা ভোগ করতে পারে না, এবং তাদেরকে দেওয়া হয় না। এজন্যই ৬৫ দিনের অবরোধ নিয়ে চিন্তা করছে নিবন্ধনকৃত না হওয়া শত শত জেলেরা ।

গভীর সমুদ্র থেকে ফেরা এফবি জান্নাত ট্রলারের মাঝি কুদ্দুস মিয়া জানান, সাগরে মাছ ধরে টেনেটুনে সংসার চলতাম। অবরোধের কারণে চলে আসতে হলো। কিছু ছেঁড়া জাল রয়েছে। সেগুলো সেলাই করতে ৮-১০ দিন সময় লাগবে। তারপর বেকার সময় পার করতে হবে।

এফবি বন্ধন ট্রলারের মাঝি সরোয়ার জানান, ট্রলারে কাজ করে গত বছর ৮০ হাজার টাকা ঋণী হয়েছি। ওই ঋণ এখনো শোধ করতে পারিনি। ওই ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা সংসার চালাবো কী করে সে চিন্তায় আছি।

মহিপুর, কুয়াকাটা, আলিপুরের নিবন্ধন না হওয়া জেলেরা বলেন, মোগ তো নিবন্ধন নাই, জাগো নিবন্ধন আছে তারাতো সরকারি চাউল পাইবে। সেই চাউল দিয়া তাগো কোনরকম সংসার চলবে। কিন্তু মোরা কি করমু, আমাগো তো কেউ চাউল দেবে না। তাহলে মোগো সংসার কিভাবে চলবে। এমনিতেই ধার-দেনা হইয়া গেছি, কেউ এখন আর ধার দেবে না, মাহাজন তো দূরের কথা।

জেলেদের সংগঠন আশার আলোর সভাপতি নিজাম শেখ জানান, জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোসহ নিষেধাজ্ঞাকালীন গভীর সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, যারা এখনো সরকারের নিবন্ধনের বাহিরে রয়েছে, তাদেরকে দ্রুত সরকারের নিবন্ধনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলার ২৫ হাজারের অধিক জেলেকে দুই ধাপে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছি।
৬৫ দিন গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সমুদ্র মোহনায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পোস্টার ও মাইকিংন এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই আইন অমান্যকারীদের জরিমানাসহ বিচারের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.