কিশোরগঞ্জে ইজারাদার কর্তৃক চাঁদা দাবী, দোকান ভাংচুরের অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা বাজারের ইজারাদার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দোকানদারের নিকট চাঁদা দাবী ও কাঁচামাল দোকান ভাংচুর এবং মালামাল লাথি মেরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ এপ্রিল,২০২২ বিকাল ৫ ঘটিকায় প্রতিদিনের ন‍্যায় ভুক্তভোগী শিবলু হোসেন তার পজেশন কৃত দোকানে কাঁচা মাল নিয়ে বসে। বসার ৩০ মিঃ পর ইজারাদার মনজুরুল ও বাবু মিয়া নতুন ইজারাদার হিসাবে ৫০,০০০ / হাজার টাকা দাবী করে এবং হুমকি দিয়ে বলেন আমরা নতুন ইজারা নিয়েছি অনেক টাকা খরচ হয়েছে এখানে দোকান করতে চাইলে ৫০,০০০/ হাজার টাকা দিতে হবে। অন‍্যথায় দোকানদারী করতে পারবি না।

দোকানদার শিবলু হোসেন বলেন, আমি তো প্রতিদিন ১০ টাকা টোল দিয়ে আসতেছি। হঠাৎ আমি এতো টাকা কোথায় পাবো। আমি একজন ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব‍্যবসায়ী। টাকা দিতে পারবো না। উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিবলু’র দোকানে থাকা কাঁচামাল গুলো লাথি মেরে ফেলিয়ে দেয় এবং ডিজিটাল স্কেল তার অফিস ঘরে নিয়ে যায়।

গণমাধ‍্যম কর্মীর সাথে কথা হলে ইজারাদার মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমার খুশি মত আমি যা করার করেছি। আপনার যা ইচ্ছা তাই করেন। এখানে দোকানদারী করতে হলে টাকা দিয়ে করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিবলু হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমরা ছোট ব‍্যবসায়ীরা তহশীলদারকে ১০ টাকা হারে টোল দিয়ে ব‍্যবসা করে আসতেছি। নতুন ইজারাদার আসার পর হঠাৎ করে দোকানীর কাছে অতিরিক্ত টোল ও চাদাঁ দাবী করে আসছে।আমাদের পক্ষে তা দেয়া সম্ভব নয়।

ক্ষুদ্র ব‍্যবসায়ী ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ৫/১০ হারে টোল দিয়ে আসতেছি। বর্তমান মনজুরুল ইসলাম ও বাবু মিয়া ইজারা নেয়ার পর ক্ষুদ্র ব‍্যবসায়ীরা বিরাট আতংক বিরাজ করছে। তারা জুলুম করে অতিরিক্ত ৫০/ ১০০ টাকা টোল দাবী করে আসছে।যা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন শিবলু হোসেনের কাছে ৫০,০০০ টাকা চাঁদা না পাওয়ায় তার দোকান লাথি মেরে দুমড়ে মুচড়ে দেয় এবং সেদিন থেকে তাকে আর দোকান খুলতে দেয় নাই এবং চাঁদা টাকা না পেলে দোকান করতে দিবে না।

ভুক্তভোগী মমিনুর, রাসেল, জামিনুর বলেন, ইতিপূর্বে বাবু মিয়ার পিতা মরহুম সোরাব সাহেব বড়ভিটা বাজার ইজারা নিয়েছিল।তার সময় ব‍্যবসায়ীরা যথেষ্ট নির্যাতিত হয়েছে। যখন তখন যে কোন দোকানীর নিকট হইতে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে নিয়েছে। কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে দোকান থেকে বের করে দিয়েছিল।

নতুন করে তার ছেলে বাবু মিয়া ও মনজুরুল ইসলাম বাজার ইজারা নেওয়ায় আমরা ব‍্যবসায়ীরা কেউ নিরাপদ নই।যে কোন সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে।আমরা সব ব‍্যবসায়ী মিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছি। আমরা এর প্রতিকার চাই। ৫০ /১০০ টাকা টোল দিয়ে ব‍্যবসা করা সম্ভব নয়। আমরা ব‍্যবসা ছেড়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবো।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ রাজিব কুমার রায় বলেন, শিবলু হোসেন নামীয় এক ব‍্যবসায়ীর অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, বড়ভিটা ব‍্যবসায়ীগণ গনস্বাক্ষরিত একটি আবেদন করেছে।বিষয়টি সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.