ঈদ ঘিরে সেজেছে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল জোন

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
১৮ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী কুয়াকাটা হোটেল, মোটল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন রূপে সাজাতে শুরু করেছে। রমজানের পর ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজাতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। হোটেলের ভেতর-বাহিরে রং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সব দিকে খেয়াল রাখছেন কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তা কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ, সড়ক-বীচ পরিষ্কার রাখাসহ সবদিকে খেয়াল রাখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র সৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি এই কুয়াকাটা যদি সুন্দর না থাকে, তবে আমাদের কোটি টাকা বিনিয়োগ কোন কাজে আসবে না। এখানে যারা আসে তারা সমুদ্র সৈকতের গর্জন ও তার সৌন্দর্য দেখতে আসেন। তাই সকলের উচিত সমুদ্র সৈকতকে সুন্দর রাখা।

আগামী ঈদুল ফিতর ও সরকারি লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে অগ্রিম হোটেল বুকিং। নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।

ঈদের প্রথম দিন থেকে পুরো এক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৭০-৭৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৫০-৫৫ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জহির খাঁন।

গত দু’বছর করোনায় ঈদ মৌসুমে পর্যটকরা সৈকতে আসতে না পারায়, এবার তারা সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না বলে ধারণা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরে লাখো পর্যটক কুয়াকাটায় আসবে।

হোটেল সমুদ্র বিলাস আবাসিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল ইমন বলেন , রমজান মৌসুমে তেমন পর্যটক থাকে না। তাই আমরা ঈদে যেসব পর্যটক আসবে তাদের সার্বিক সুবিধার কথা চিন্তা করে হোটেলের রুমগুলো সৌদর্য বর্ধনের কাজ করছি। যেন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ে। কারণ দেশে করোনায় বিগত দু’বছর পর্যটক ঈদ মৌসুমে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসতে পারেনি। হয়ত এবার তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। আগের তুলনায় একটু বেশি পর্যটক আসতে পারে।

হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার জানান, আশা করছি এবার আশানুরূপ পর্যটক কুয়াকাটা আসবে। তাই আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। পর্যটকরা যেন পর্যটক সেবীদের কাছ থেকে ভালো সেবা পায়। তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র বলেন, সড়ক পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে বীচ পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এদিকে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুয়াকাটা পৌরসভা বেড়াতে আসা পর্যটকদের যেন চলাচলের কোন সমস্যা না হয়, সেদিকও খেয়াল রেখে সড়কের কাজের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জানান, আমরা আমাদের জনবল নিয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। ঈদুল ফিতরে আমরা বাড়তি নিরাপত্তার কথা চিন্তায় রেখে টহল পুলিশ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। টুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করেছি। প্রতিটি টিম পর্যটন এলাকায় টহলরত থাকবে।হোটেল মোটেল এলকায় থাকবে আরেকটি বিশেষ টিম। সমুদ্র সৈকতে সাদা পোষাকধারী টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা টহলরত থাকবে এবং তারা পর্যবেক্ষনে রাখবে কারা কি করছে। আশা করছি আমার আমাদের টিম নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.