মাদারীপুরে বাজি ফুটানোকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২

কে এম, রাশেদ কামাল, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চৌহিদ্দি গ্রামে অবৈধভাবে ঈদের বাজি ফুটানোকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় দুইজন আহত হয়েছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহ:বার রাতে। থানায় মামলা করেছে ভিকটিমের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার কদরের নামাজের পরে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চৌহদ্দি গ্রামে একটি বাড়িতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বাজি ফুটায় দত্তকেন্দুয়া গ্রামের রব হাওলাদারের ছেলে বাবু, মনির, আতিয়ার এবং জামাল। এসময় আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির মহিলারা এর প্রতিবাদ করলে মহিলাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের গায়েও হাত দেয় সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মীমাংসা হলেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কলাগাছিয়া বাজারের দিকে চলে যায়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে এবং ইউপি মেম্বারের মাধ্যমে মীমাংশা করে দেয়। তার কিছুক্ষণ পরে সন্ত্রাসীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে কলাগাছিয়া বাজারে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মারাত্মক ভাবে আহত হয় কালাচাঁদ বৈদ্যের ছেলে রিঙ্কু বৈদ্য এবং সহাদেব বাড়ৈর ছেলে শুভ বাড়ৈ। আহতদেরকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় আহত রিঙ্কু বৈদ্যর বড় ভাই রিপন বৈদ্য বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, ‘কালাচাঁদ হাওলাদারের সেজ ছেলে আতিয়ার হাওলাদার এলাকায় একজন ছিচকে চোর হিসেবে পরিচিত। এলাকায় ছোটখাটো চুরি সহ মোস্তফাপুর এলাকায়ও চুরি ছিনতাই করে থাকে সে।’

তিনি আরো জানান, বাবু, মনির এবং জামাল ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের কয়েক জনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদারীপুর জেলা সহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে এরা বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি করে থাকে। প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েক বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও কিছুদিন পর আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে এসে আবারো চুরি ডাকাতি করতে থাকে। ‌

আহত রিঙ্কু বাড়ৈর ভাই রিপন বৈদ্য বলেন, ‘গতকাল রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে আতিয়ার, মনির, বাবু এবং জামাল মিলে কলাগাছিয়া বাজারে বসে আমার ভাইয়ের উপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে আমার ভাই সহ আরেকজন গুরুতর আহত হয়। আমি সন্ত্রাসীদের শাস্তি দাবি করছি।’

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান মিঞা জানান, এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার মামলা করেছে, গতকালকে আমরা একজনকে আটক করেছে, বর্তমানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি শীঘ্রই বাকিরাও গ্রেফতার হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.