নাসিরনগরে সংর্ঘষের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা

আকাশ সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল ও শ্রীঘর দুই গ্রামের লোকের মধ্যে নদীর পাড়ে ধানতোলাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের ঘটনায় মৃত সানু মিয়ার ছেলে নায়েব উল্লাহ (৪৫) মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সংর্ঘষ চলাকালে লাইভ ধারণ করায় সাংবাদিক নাসিরনগরে এশিয়ান টেলিভিশন ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নাসিরনগর উপজেলার সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান ও তার পরিবারকে মিথ্যা খুনের মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, নদীর পাড়ে দুই গ্রামের সংর্ঘষ চলাকালে সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান নাসিরনগর সদরে থানার সামনে রাজিব কম্পিউারে বসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপলক্ষে গরীবদের মাঝে ঘর বিতরণের সংবাদ লিখায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় মোবাইলে দুই গ্রামের লোকজনের মাঝে ঝগড়ার খবর আসে।

খবর পেয়ে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান সাথে সাথে মোবাইল ফোনে ঝগরার বিষয়টি নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকারকে জানালে তিনি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে তার নিজের মোবাইল থেকে ঝগড়ার লাইভ দেন।

সংঘর্ষে চলাকালীন সময়ে শ্রীঘর গ্রামের জুনাইদের চাচা মৃত সানু মিয়ার ছেলে নায়েব উল্লাহ (৪৫)তার গ্রামের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিঃমিঃ দুর থেকে প্রচন্ড গরমের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারি করার জন্য ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই মৃত্যু বরণ করে।

পরে নায়েব উল্লাকে নাসিরনগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।খবর পেয়ে সরাইল নাসিরনগর,আশুগঞ্জ সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্ষনে আসেন। এ সময় ওসি,সার্কেল,ডাক্তার মিলে সাংবাদিক আব্দুল হান্নানকে সাথে নিয়ে নিহতের শরীরর বিভিন্নভাবে পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন এবং অডিও ভিডিও ধারন করেন।

নিহত নায়েবুল্লার শরীরের কোথাও কোনরূপ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নায়েবুল্লার নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ আশিক মর্তুজা সীমান্ত বলেন প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে নায়েব উল্লাহ হার্টএটাকে মারা গেছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরিক্ষা ও ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

পরে ওই ঘটনায় ৪৯ জন অজ্ঞাত নামা আসামী করে নিহত নায়েববুল্লার ভাই বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নানকে ৫ নান্বার আসামী করা হয়েছে। সাংবাদিক ছাড়াও তার পরিবারের বড় ভাই মোঃ ফরিদ মিয়াকে ৬ নাম্বার আসামী সহ তার ছোটভাই সাফু মিয়াকেও আসামী করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকার মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে বলেন,গোষ্ঠীগত দাংঙ্গা কারণে আব্দুল হান্নানকে আসামি করেছে বাদী পক্ষ, এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে সরাইল সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনিছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে যদি কোনো নিরাপদ ব্যক্তি নাম চলে আসে, আপনি জানেন দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে বিষয়, মৃত্যুর কারণেও সঠিক ভাবে এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট উপর ভিত্তিকরে এবং আমাদের তদন্তের সাপেক্ষে পুরো ঘটনাটা তুলে আনা হয়। এবং নিরঅপরাধ ব্যক্তি যাতে কোনো প্রকারে অযথা হয়রানি না হয়। এবং প্রকৃত আসামি যাতে পুলিশ হাত থেকে না বাঁচতে পারে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহকারে দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.