যেই জেলেরা কুয়াকাটায় বৈশাখী উদযাপনে ব্যস্ত, তারাই আজ বৈশাখ ভুলে গেছে

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
বৈশাখ মানে আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকে কৃষক জেলে সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। পুরো একটি বছর জুড়ে কুয়াকাটা জেলেপল্লী গুলোতে বৈশাখ নিয়ে চলে নানা পরিকল্পনা। তবে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পবিত্র মাহে রমজান থাকায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটায, একদিকে সাগরে মাছ না পড়ায় মানবতার জীবন কাটাচ্ছে এসব পরিবারগুলো, বৈশাখের প্রথম দিনটি যেন ধুলায় পরিণত হয়েগেছে তাদের মাঝে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (১৪ এপ্রিল-১৬ এপ্রিল ) পর্যন্ত পুরো সৈকত ঘুরে দেখা যায়, সৈকতজুড়ে সুনসান নীরবতা। কোনো পর্যটক নেই। বিচ চেয়ারগুলো খালি পড়ে আছে। কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ ফুচকার গাড়ির দেখা মিললেও তা ছিল তালাবদ্ধ। আপন মনে আচড়ে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ। সাগরের দিকে তাকিয়ে আছে জেলেরা, সাগর নিরব হবে, কমে যাবে বাতাসের গতি আবার অনেক আশা নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাবে মাছ শিকার করতে জেলেরা। আশায় আশায় বৈশাখের প্রথম দিনের কথা ভুলেই গিয়েছে জেলে আব্বাস মাঝি।

সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, তাদের ইতিহাসের কথা, বৈশাখ আসলেই আনন্দে মেতে থাকতো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ছেলে মেয়ে আত্মীয়-স্বজন পাড়াপড়শি নিয়ে চলত হাড়িভাঙ্গা, কাবাডি খেলা, কলাগাছে ওঠা, বালিশ বদল, চেয়ার চ্যাটিং, দৌড় সহ অন্যান্য। এছাড়াও জেলেদের আকর্ষণীয় খেলা নৌকা পাল্লা, দিনশেষে রাত্রিবেলায় জারি গান, পালা গান, কৌতুক ও নাচ-গানে মেতে উঠতো, আজ সবাই যেন থেমে গিয়েছে অভাবের তাড়নায়।
জেলেদের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য সেই দোকানটায় সাজানো হয়নি, পাঠানোনি হালখাতার চিঠি। মহামারী করোনাভাইরাস এর অভিশাপ ও ভাগ্যের অভিশাপের লিখন কেড়ে নিয়েছে তাদের আনন্দ উৎসবের দিন।

আব্বাস মাঝি বলেন, বৈশাখ আসলেই আগে আমরা নানা চিন্তাভাবনা করতাম কিভাবে বাঙালি উৎসবটা পালন করতে পারি। তবে তিন বছর যাবত বৈশাখী কি সেই কথাটাই ভুলে গেছি অভাবের তাড়নায়। সাগর উত্তাল হয় তাই ধারণা করতে পারি বৈশাখ এসেছে ক্যালেন্ডারে তারিখটা দাগ দিয়ে রাখাটাও মনে নেই, তিনি আরো বলেন জেলেরাই জানে জীবন যুদ্ধ কতটা কঠিন।

মুদি দোকানদার মোঃ নুর আলম জানান, জেলেদের কাছে ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকার মতো টাকা পাওনা আছে আমার। অতীতে হালখাতা করতাম সেই হালখাতায় যার যার টাকা সে সে পরিশোধ করতো। তবে এবারে জেলেদের অবস্থা দেখে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে তাই আর লজ্জা না দিয়ে হালখাতার পরিকল্পনা ছেড়ে দিয়েছি। বলেছি সাগরে মাছ পাইলে টাকা পরিশোধ করবে তিনি আরো বলেন আসলে জেলেদের জীবনটাই একটা আশা।

কুয়াকাটা আশার আলো জেলা সমিতির সভাপতি মোঃ নিজাম শেখ বলেন, আসলে জেলার অনেক কষ্টে আছে, জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ছে না, জেলেরা বলছে সাগরে নাকি মাছ নাই প্রতিদিন লোকসান ছাড়া লাভ হচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেক জেলেরা মাছ ধরার ছেড়ে দিয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে হারিয়ে ফেলব জেলেদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.