রৌমারীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে বলায় সাবেক ইউপি সদস্যের তান্ডব

মো: রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা,মামলা ও পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মতিন নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। গত ৩দিন ধরে এ তান্ডব চলছে রৌমারী উপজেলার চরবন্দবেড় গ্রামে। এ ব্যাপারে ২ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন কয়েকদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু তুলে তার বাড়িভিটা উঁচু করছিলেন। যে স্থান থেকে বালু তুলছিলেন সেটি একটি ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। এ কারণে গত ৮ এপ্রিল দুপুরের দিকে ওই এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে আপেল মিয়া (২৫) ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটিও হয়। ওইদিন বিকেলে রৌমারী বাজার যাওয়ার পথে কলেজপাড়াস্থ আরডিআরএস অফিসের সামনে আপেলের পথ রোধ করেন মতিন মেম্বার। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাটির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়েই কিছুটা আহত হন। পরে তারা রৌমারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু ওইদিন রাতে মতিন মেম্বারের ভাই বাবু’র নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ ফুল মিয়ার (৫৫) বাড়িতে গিয়ে তাকে মারপিট ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয় ফুল মিয়ার। পরে তাকে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করান এলাকাবাসী। পরদিন ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মতিন মেম্বারের নেতৃত্বে আবারও ফুল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় বাড়ির আসবাসপত্র ভাংচুর করার পর ফুল মিয়ার ২ ছেলে আপেল মিয়া (২৫) ও আঙ্গুর মিয়াকে (২০) বাড়ি থেকে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান মতিন মেম্বার। সেখানে তাদের বেদম মারপিট করলে তাদের মাথা ফেটে যায় ও তারা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে তাদের ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষে থেকেই রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রৌমারী থানার ওসি মোনতাছের বিল্লাহ বলেন, ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৬ জনকে আসামী করে মতিন গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে জুরান আলীর ছেলে মাইদুল ইসলাম (৩৩) ও লাল মিয়ার ছেলে ইউনুছ আলীকে (৩৬) গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.