রাজবাড়ীতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা নেই, গাছ তলায় রোগীরা

কাজী তানভীর মাহমুদ:
রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ৪২জন রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১১ টি আসনের বিপরীতে কয়েকগুন রোগী বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।

সোমবার সকাল ১১ টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওর্যাডে সিট ও মেঝোতে গাদাগাদি করে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি রয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে একাধিক রোগীকে বাধ্য হয়ে গাছতলায় চিকিৎসা গ্রহন করতে দেখা গেছে। খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরমে রোগীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, গত ৩ দিন পর্যন্ত ৪২জন হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। গত ২৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেড় শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। হঠাৎ করেই গত ২৪ ঘন্টায় ডায়রিয়া প্রকোপ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কে।

সোমবার সকালে ২২ জন রোগীকে ছারপত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে আসা ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা সদরের লক্ষীকোল গ্রামের বাসিন্দা রাজিয়া আক্তার তার মাকে নিয়ে এসেছেন ডায়রিয়া বিভাগে। সেখানে জায়গা না পেয়ে বাহিরে ড্রেনের পাশে রোদ্রের মাঝে শুয়ে আছেন।

রাজিয়া আক্তার বলেন, সোমবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় মাকে নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপালে এসেছি। সেখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কোন সিট বা মেঝেতেও জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে বাহিরে ড্রনের সামনে মাবে শুইয়ে রেখেছি।

ছোট্ট শিশু সামিয়াকে নিয়ে এসেছেন তার নানি নাজমা বেগম। তিনি বলেন, গতকাল রাত থেকে সামিয়া পায়খানা করছে। সকালে তাকে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসি। সেখান থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডে কোন জায়গা না পেয়ে বাহিরে চাদর টানিয়ে আছি। প্রচন্ড গরমে অনেক কষ্ট হচ্ছে আমাদের।

গৃহবধূ সুমি বেগম বলেন, আমার ছেলে আবিদের বয়স ১০ বছর। গতকাল রাতে সে অসুস্থ হলে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রথমে শিশু বিভাগে ভর্তি করলেও পরে আবিদ কে ডায়রিয়া বিভাগে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় বাহিরে গাছ তলায় চিকিৎসার জন্য আছি।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, গত ৩ দিন পর্যন্ত ৪২জন হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার সকালে রাউন্ড শেষে ২২ জন রোগীকে ছারপত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো ২২ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভালো ভাবে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সহ খাবার স্যালাইন বেশি বেশি খেতে হবে। সকল কে সচেতন হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.